মলয় রায়চৌধুরী

মলয় রায়চৌধুরী

রবিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২০

যুবতীদের লেখালিখি


খদ্দেরদের আনন্দের কবিতার বই

“খদ্দেরদের আনন্দের কবিতার বই”
আজকাল সবাই বেশি-বেশি কবিতা লিখে ফেলছে
আমি বুড়ো হয়ে গেলুম কিন্তু বেশি-বেশি কবিতা লেখা হল না
আজকাল সবাই বেশি-বেশি কবিতার বই প্রকাশ করছে
আমি বুড়ো হয়ে গেলুম কিন্তু বেশি-বেশি বই বের করা হল না
বন্ধুরা যৌবনে সোনাগাছিতে কবিতার বই বিলোতো
তখন বুকে আর পাছায় সিলিকন জেল দরকার হতো না
ঠোঁটকে মৌমাছি-কামড়ানো করার ইনজেকশান নিতে হতো না
মুখকে যৌবনে ফেরাবার প্লাসটিক সার্জারি করবার দরকার হতো না
সব মেয়েই সুন্দরী ছিল বলে বন্ধুরা তাদের কবিতার বই বিলোতো
তাদের মালখোর মাসকাবারি খদ্দেরাও বেজায় তাকধিনাধিন খুশি  
অচেনা কবিদের কবিতা-পাঠিকা-বিদুষীর বিছানায় রাত কাটিয়ে

দেশে-বিদেশে

“দেশে-বিদেশ”
পতাকা উত্তোলনের জন্য উনি দড়ি টানলেন
পতাকা খুললো না
ফুলসুদ্ধ পুঁটলি ওনার পায়ের কাছে এসে 
আছড়ে পড়ল
উনি পতাকাহীন আছোলা দণ্ডের দিকে তাকিয়ে
স্যালুট দিলেন
যথারীতি কিছুক্ষণ দেশপ্রেমের বাজনা বাজলো
ততোক্ষণ উনি গম্ভীর মুখে স্যালুট অবস্হায় 




শনিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২০

আমি বাবার মতন শ্রমিক হতে পারলুম না

“আমি বাবার মতন শ্রমিক হতে পারলুম না”
রাজা, নবাব, জমিদারদের পরিবারের সুন্দরীদের 
পেইনটিঙ আঁকতেন দাদু আর মোটা টাকা পেতেন
বাবা তরুণীদের বিয়ের জন্য ফোটো তুলে দিতেন
রিটাচ করে সুন্দরী করে তুলতেন যাতে পাত্ররা ফোটোর প্রেমে পড়ে
যাতে মেয়েগুলোর হিল্লে হয় আর যৌতুক কম লাগে
বাবার মগজে এই তরুণীরা তেমন হেলডোল তুলতে পারতো না
অথচ আমি তরুণীদের দেখলেই চনমনে হয়ে উঠতুম
বারবার প্রেমে পড়ার রোগ ধরে গেল আমার
এক ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আরেক ফাঁদে গিয়ে আটকে পড়তুম
বেরোবার জন্য ছটফট করতে-করতে বেরিয়ে যেতুম
আমি বাবার মতন শ্রমিক হতে পারলুম না



শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২০

ভালো মেয়ে - খারাপ মেয়ে

“ভালো মেয়ে - খারাপ মেয়ে”
আমি বেঁচে থাকতেই 
ভালো মেয়ে আর খারাপ মেয়ের ধারণা পালটে গেল
তখন কোনো মেয়ে মদ খেলেই সে খারাপ
এখন মেয়েরা ককটেল তৈরির ফরমুলা বাতলায়
তখন মেয়েরা লুকিয়ে চুমু খেতো
এখন মেয়েরা ডিসকোয় মলে মালটিপ্লেক্সে আলগোছে চুমু খায়
লাইটপোস্টের তলায় দাঁড়িয়ে শীতকালে চুমু খায়
টেপাটিপি করে ; তখন টেপাটিপি ছিল একদম নো-নো
তখন শুধু প্রেমিক বা বরকে চুমু খেতে দিত
এখন যাকে পছন্দ তাকে চুমু খায় যেখানে পছন্দ হাত দিতে দেয়
তখন মেয়েরা গোড়ালি পর্যন্ত শাড়ি পরত
এখন ইচ্ছে করলে হাঁটুর ওপর উরু পর্যন্ত স্কার্ট পরে
তখন মেয়েরা গরু শুয়োর খেতো না 
এখন আফ্রিকার আর অসট্রেলিয়ার বুশ মিট খায়
তখন মেয়েরা হাজব্যাণ্ড সোয়াপিং করত না এখন অনেক জুটি করে
তখন আমার উচিত ছিল বুড়ো হওয়া আর এখন যুবক, হায়




জিনগত দোষ

“জিনগত দোষ”
কবি, অথচ অন্য কবিদের হিংসে করবে না
এটা মানা যায় না
হায়না, অথচ দলবেঁধে পচামাংস ছেঁড়াছিঁড়ি করে খাবে না
এটা মানা যায় না
টাইগার শার্ক, অথচ পেঙ্গুইনদের ছত্রভঙ্গ করে লুফে-লুফে খাবে না
এটা মানা যায় না
আফ্রিকার অতিমাংসাশী  জংলি কুকুর জ্যান্ত হরিণকে ছিঁড়ে খাবে না
এটা মানা যায় না
কবি, অথচ অন্য কবিদের হিংসে না করলে বুঝবেন
তার জিনগত দোষ আছে : রবীন্দ্রনাথকেও কবিরা হিংসে করত



বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২০

কৌমকান্না


“কৌমকান্না”
এই শালা বিদ্ধস্ত পুরুষ, সটাসট গিলছে ককটেল
কাউন্টারের কুর্সিতে বসে  কাঁদছে নিজস্ব কান্না
সামনের প্লেটে পেস্তা আখরোট হ্যাজেলনাটগুলো 
মদের সঙ্গেই পায় অথচ খাচ্ছে না । এখানে তো জুটি ছাড়া
ঢুকতে দেয় না, নিশ্চয়ই কোনো পথবেশ্যা তুলে এনে
ডিসকোর শীতাতপ সুগন্ধী ঘেমো ভিড়ে  নাচতে পাঠিয়েছে
সঙ্গীতের কানফাটানো প্যাঁদানির চোটে উদ্দাম নাচছে যৌবন
আমি নিশ্চিত, সারা দেশ জুড়ে, এই সময়ে, হাজার হাজার
হাফ-প্রৌঢ়রা,  কাঁদছে কোনো না কোনো শুঁড়িখানার আধোঅন্ধকার
গ্যাঞ্জামে । কালকে সকালে ফিরে যাবে লাৎখোর দিনানুদৈনিকে ।



বেচারা ভার্জিন প্রাণী


“বেচারা ভার্জিন প্রাণী”
ছয় ফিট উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা খুঁটি বাঁধা ষাঁড়টা দাপাচ্ছে মাটি
অনেক সন্তান সন্ততি আছে ওর সারা দেশ জুড়ে
বেচারা ভার্জিন
ধাতুরস দান করে পয়দা করে চলেছে সংকরগাই
ইউরোপ আমেরিকা জুড়ে সারবাঁধা ভার্জিন গরু
গড়ে উঠছে চর্বিদার মাংস দেবে বলে
চিনে আর চিনে-টাইপের দেশে একইভাবে মাংস দেবার জন্য 
ভার্জিন গোলাপি শুয়োর তৈরি হচ্ছে খাওয়া হবে বলে
ভার্জিন মুর্গির মাংস, ভার্জিন মুর্গির ডিম
বিরিয়ানি হবে ভালো কলকাতায়, হায়দ্রাবাদে
আমরা সেক্সের আমোদ নিয়ে খাবার জন্য জীবদের
ভার্জিন করে রেখে দিই 
হায়,  ওদেরও প্রণয়সঙ্গ দরকার, বেচারা ভার্জিন প্রাণী


তরুণ বয়সে অনেকে আমাকে পছন্দ করত না

“তরুণ বয়সে অনেকে আমাকে পছন্দ করত না”
আমি গরু-শুয়োর গাঁজা মদ খেতুম বলে নয়
গরু শুয়োর গাঁজা মদ খেয়ে
ওদের থেকে ঢ্যাঙা হয়ে যেতুম বলে নয়
ওদের মগজ বেঁটে করে দিতো আমার ছড়ানো টাকায়
আমি কিন্তু ঘেন্না করতে পারিনি
ওরা বেঁটে বলে
গরু আর শুয়োরেরা ঘেন্না করতো ওদের পালটাকে
ওরা নারীদের ভালোবাসতে জানতো না
বেশ্যাদের পাড়ায় গিয়ে নারীর ভালোবাসা খুঁজতো
অথচ নদীতীরে বসেই তো ভালোবাসা যায় স্নানরতা 
পতিব্রতাদের জলের সঙ্গে খেলতে দেখে

বিখ্যাত কবির নেমপ্লেট

“বিখ্যাত কবির নেমপ্লেট”
একজন কবির বাড়ির বাইরে নেমপ্লেট দেখে
মনে পড়ে গেল স্নাতকোত্তর সহপাঠীদের মাঝরাতের পড়াশুনা
চকচকে কবির গ্র্যানিট পাথরে লেখা নাম
মনে পড়ে গেল খ্রিস্টানদের ফেলে-যাওয়া কবরের
চকচকে নামখোদাই গ্র্যানিট পাথরে শুইয়ে
গঙ্গার ওপার থেকে রোজগারের ধান্দায় আসা ফুলকো গৃহবধু
সস্তার বেশ্যাদের থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়া
স্নাতকোত্তরে মাঝরাতের রেশারেশি পড়াশুনা
বেশ কয়েকজন আইএস আইপিএস হয়ে অবসর নিয়েছে
কবরের ওপরের চকচকে নামখোদাই গ্র্যানিট পাথরগুলো
থেকে গেছে এখনকার স্নাতকোত্তর ছাত্রদের
অনুপ্রেরণা যোগাতে

যাহোক তাহোক - যা হোক, তা হোক

“যাহোক তাহোক - যা হোক, তা হোক”
এখন যা লিখে যাচ্ছি কুছ পরোয়া নেই টাইপের
আলফাল বালের লেখালিখি, তা আর সংগ্রহে রাখছি না
চেলাদের দল নেই মোসায়েবদের লিটল ম্যাগও নেই যে
জড়ো করে রেখে দেবে আগামী বাচ্চা-বুতরুর জন্য
কিচ্ছু রাখছি না, খুনির খুংখার ঠাণ্ডা মাথায়
বাক্স-প্যাঁটরায় ভরে ন্যাপথালিনের গন্ধে পুরছি না
পাঠিয়ে দিচ্ছি কাগজের মর্গের ডোমদের হেফাজতে
এককালে কোটি-কোটি টাকা পুড়িয়ে নষ্ট করার
জাহান্নমি অভিজ্ঞতা আছে হে নষ্টাবতার

চোষাচুষি

“চোষাচুষি”
কয়েকজন স্কুলছাত্র হাসাহাসি করছিল
এতো হাসাহাসি কেন ? 
যেদিকে তাকিয়ে হাসছিল
চেয়ে দেখি সরেস যুবতী এক
আইসক্রিম চুষছে আয়েস করে
মুখে পুরছে আর বের করছে টেনে
একটি ছাত্র  আমাকে উদ্দেশ্য করে
বলল, কী দাদু, কী দেখছেন ?
বললুম, জিভটা সত্যিই গোলাপি মেয়েটির

সোমবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২০

শরশয্যায় শেষ দুশ্চিন্তা

“শরশয্যায় শেষ দুশ্চিন্তা”
আমি তোমাদের পিতামহ ভীষ্ম
তোমরা নিজেরা লড়বে থামাতে পারব না
আমি আমার জন্মদিন জানি না, বাবা-মার জন্মদিন জানি না
যাদের দলে আছি তারা একশোজন একই সঙ্গে একই তারিখে জন্মেছিল নাকি
ওরাও নিজেদের জন্মের তারিখ জানে না কেননা কয়েকজন
পরের সূর্যোদয়ে জন্মেছিল, হয়তো প্রথম পঞ্চাশজন আফগানিস্তানে
যাদের সঙ্গে লড়ছে তারাও পাঁচ ভাই জানে না কে কবে জন্মেছিল
তাদের আসল বাবার জন্মদিন কেউই জানে না
নকল বাবা কি নথিপত্রে মান্যতা পাবে ?
আরেকটা ভাই আছে কানের ভেতরে আইভিএফ করে পয়দা হয়েছিল
সেও জানে না তার জন্মদিন কবে ! কী তার বাবার সাকিন, জন্মদিন ? বিগ ব্যাং ?
আমার মা গঙ্গা  জন্মেছিলেন কবে জুরাসিক, ক্রিটেশিয়াস, প্যালিওজিন যুগে
আমার বাবার চেয়ে কতো কোটি বছরের বড়ো সুন্দরী যুবতী ছিলেন?
যাই হোক আমার পূর্বপুরুষদের ও উত্তরপুরুষের পরিবারের লোকেদের
জন্মের তারিখ আর আঁতুড়ের ভূমি নথিতে লেখেননি গণেশ ।
আমি ঠিক কোন রাজ্যে জন্মেছিলুম ? উত্তরাখণ্ডে, উত্তরপ্রদেশে, বিহারে, বাংলায় ?
তীরের বিছানায় শুয়ে ভাবছি এই ফালতু পাঁচসাত
তৃষ্ণা মেটাবার জন্য মাটিতে একের পর এক তীর চালিয়েও
জলের ফোয়ারা তুলতে পারেনি অর্জুন ; মাটির তলার জল শুকিয়ে গিয়েছে !
প্রতিটি তীরে শুধু উঠে আসছে টাটকা রক্তের ঝর্ণা, বিভিন্ন ধর্মের, জাতির বর্ণের, ত্বকের, জঙ্গলের, পাহাড়ের মানুষের দানবের রাক্ষসের 
আমার হাঁ-মুখে  আছড়ে পড়ছে অনন্তকাল জুড়ে উষ্ণ প্রস্রবন
এই রক্তস্রোত থামবে না কোনোদিন ; লড়াই চলতে থাকবে অবিরাম
আমিও তৃষ্ণার্ত থেকে যাবো আণবিক যুদ্ধ না-হওয়া পর্যন্ত

রবিবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২০

তুমি কেমন গো


রাষ্ট্রের ইঁদুরেরা


অবন্তিকা বানুর জন্য প্রেমের কবিতা


রাষ্ট্রের ইঁদুরেরা