মলয় রায়চৌধুরী

মলয় রায়চৌধুরী

বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০

তোমার তামাটে পা

 তোমার তামাটে পা


তোমার পায়ের দিকে চেয়ে থাকি, একদৃষ্টে সম্ভব নয় চেয়ে থাকা

কী বলে এই দৃশ্য ও অদৃশ্যের মাঝে দ্রুত ঝরোয়ার তামাটে গোড়ালিকে ?

পুরবীকল্যাণ, কামেশ্বরী, চারুকোষ, জনসন্মোহিনী আঙুলগুলোকে ?

পায়ের অবিস্মরণীয় স্মৃতিশক্তি আর কারোর দেখিনি কখনো

মনে হয় রেক্যুইয়েমের ইঙ্গিতবাহী তামাটে ঘনশ্যামা মন্দ্র সপ্তক

অথচ শব্দ নেই, বাতাসও নিথর, কেবল তোমার 

দুটি তামাটে পায়ের স্পর্শে পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরেই চলেছে


শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

প্লাস্টিকের যুবতী

 

প্লাস্টিকের যুবতী


জাপান থেকে কিনে এনেছিলুম

প্লাস্টিকের সুন্দরী যুবতী

আমি অফিস চলে গেলে

প্লাস্টিকের যুবতী আমার বড়ো ছেলের 

সঙ্গে প্রেম করে

মেজোছেলেকে সঙ্গম করতে দ্যায়

আমি যেটা করি তাকে কী বলব ?

প্লাসটিকের যুবতীর সঙ্গে ওরা একখানা

নির্দেশিকা দিয়েছে :

যুবতীর মাথা উত্তরদিকে থাকলে

আপনার মাথা যেন দক্ষিণদিকে থাকে

আমার ছোটো ছেলে দক্ষিণপন্হী

সে নির্দেশিকা মেনে চলে

বড়ো ছেলে উপুড় করে প্রেম করে

আমি যা করি তা বলবার নয়

যখন চুমু খাই তখন প্লাস্টিকের যুবতী বলে ওঠে :

পৃথিবীকে তাড়াতাড়ি প্লাস্টিকমুক্ত করো নাগর

নয়তো তোমাদের সব্বাইকে আমি ভালোবাসায় ধ্বংস করব

কিন্তু নগদ জাপানি টাকায় কিনে এনেছি

তুলতুলে জাপানি ডলপুতুল

আমার পরের সাতজন্ম পর্যন্ত প্রতিটি

পুরুষের বউয়ের ভূমিকায় শোবে

মরার যখন তখন 

প্লাস্টিকের সবকিছুই সবাইকে মারবে




 







ছাই

 

ছাই


চিতার ওপরে পা ছড়িয়ে উঠে বসতে বাধ্য হলুম

বগলে জমে থাকা সারা জীবনের রোদগুলো চুলকোচ্ছিল

কুঁচকিতে আশ্রয় দিয়েছিলুম পূর্ণিমাকে, 

শেষে ঢুকে গেছে প্রোস্টেটে বলছিলেন অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান

বৌদ্ধধর্ম কাৎ মেরে ভিয়েতনামে সাম্যবাদে পালটে গেলে

চিতার ওপরে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লুম

বড্ডো দেরি করে হিন্দু পুরুতগুলো

টিকি থেকে কজনই বা আগুন তৈরি করেছে

জঠরাগ্নি

নৌকোয় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে চিতাগুলো

ভাসবে আকাশের কোথাও দলবেঁধে স্লোগান দেবে

ওনার সঙ্গে তিব্বতে চৌ অ্যাণ্ড লাইয়ের কবলে

মণিপদ্ম

কোলোম্বাসের মতন দিকমূর্খ হওয়া চিতাদের জরুরি

অনেক মাথা কেটে অ্যাজকটেক পিরামিড গড়েছিলুম

করোটি

অমর কেই বা হতে চেয়েছিল

সব ছাই ছাই




 
















শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০

রক্তানুরঞ্জন

 

রক্তানুরঞ্জন

দুই দল উলঙ্গ যুবতী আমার কাটা মাথা নিয়ে খেলতে নেমেছে
রক্তের জলাশয়ে - এক-একটা দলে চারজন ড্রাইভার, একজন
ফ্লোটার ব্যাক একজন ফ্লোটার ও একজন গোলরক্ষক খেলছে
রক্তানুরঞ্জন গ্যালারিতে ঠাশা পুরুষ দর্শকদের ওসকাতে,
নারীরা এই খেলায় অংশ নিতে পারে দর্শকাসনে বসতে পারে না
যখন ছুঁড়ছে মাথা ওপরে হাওয়ায় দেখছি প্রতিটি দর্শকই আমি
বিভিন্ন বয়সের আমি বালক কিশোর ছোকরা যুবক প্রৌঢ় বুড়ো
চিৎকারে চাঙ্গা করতে চাইছে এই বা ওই পক্ষের যুবতীদলকে
আমার যাতনার কথা ভাবছে না দর্শক আর খেলুড়ে মেয়েরা
যে রক্তে খেলতে নেমেছে তাও আমার দেহ থেকে বের করা
কখনও ভাবিনি আমার শরীরে এরকম আগুনের রক্ত আছে
কেউকেউ তালুতে রক্ত নিয়ে পান করছে যাতে কাহিল না হয়
কয়েকজন সশব্দে চুমু খাচ্ছে আমার মাথাকে দুই হাতে নিয়ে
খোলা বুকে চেপে ধরছে যাতে আমি প্রণয়ের দুধ খেতে পারি
এক দলের যুবতীদের ক্রিম-দুধ নোনতা আরেক দলের মিষ্টি
দর্শকরা আমার হাজার নাম ধরে চেঁচাচ্ছে ‘দুর্যোধন সেঁটে যা,
মেঘনাদ আইসক্রিম চেটে নে, গালে চুসকি মার রে মারীচ,
শম্ভু-নিশম্ভু কায়দায় কামড়ে ধর, চন্দ্রবোড়া দাঁত বসিয়ে দে
হিরণ্যাক্ষ, না পারলে হিরণ্যকশিপুর মতন মুখে জিভ ঢোকা
কী রে, হাত থেকে সহজে বেরোসনি, কষে খোঁপা কামড়ে ধর,
হ্যাঁ, একবার নোনতা আর একবার মিষ্টি স্বাদ নিয়ে খেলে যা
দর্শকাসনে বসে আমিগুলো আমার মাথাকে সমর্থন যোগাচ্ছে
এটা আজকের ব্যাপার নয় হাজার হাজার বছর চলছে এ-খেলা

বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০

আমার ভেতরে নিমাই সন্যাসী চোর-পুলিশ খেলছিল

 

আমার ভেতরে নিমাই সন্যাসী চোর-পুলিশ খেলছিল


ভারি সোনার মোড়কে আমার লাশ, সে-ই আমার সখা

আমার মুখের সোনালী মুখোশ খোলা হয়, লিনেনে প্যাঁচানো 

নুন-মাখানো পা থেকে তিন হাজার বছরের আটক নাচগুলো 

শতশত নদী হয়ে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো জগতসংসারে

নদীগুলোকে উড়তে শিখিয়েছিলুম বাষ্প হয়ে ভাসতে

ওরা তো নাকে ছেঁদা করে ঘিলু বের করে নিয়েছিল মরে যাবার পর

ফুসফুস নাড়িভুঁড়ি পাকস্হলী বৃক্ক কিচ্ছু নেই আমি একেবারে ফাঁপা

না, ঠিক ফাঁপা নয়, করোটি থেকে পায়ের ডগা পর্যন্ত বাতাসে ভরপুর

মৃত্যুর আরামে শুয়ে আছি আর সময়ের নদী তৈরি করছি

অথচ আমি আমার মধ্যে নেই নিয়ে গেছে নদীদের ডাকাতদল

আমি খুঁজে মরছি তাদের হেই থামো হেই থামো থামো থামো



কমিউনিজমে দীক্ষা

 

কমিউনিজমে দীক্ষা


মাথার ওপরে মশার গুলতানি নিয়ে স্কুলের মাঠে আমরা আট সহপাঠী

তরুণ শুরের দাদুর দাদুরা কোমপানি বাহাদুরের শুঁড়ি ছিল

সেই মোহরের জোরে ওর বাবা-কাকারা চাকরি করেনি কখনও

মলমের চোঙ টিপে দুধ বের করে বুরুশ দিয়ে দাঁত মাজে

তরুণদের কুকুরের নাম কুকুর, ওই নামে ল্যাজ দোলায়

ওর বোতামবুকো বোনকে বলেছি ফ্রক ছেড়ে এবার শাড়ি ধর

তরুণদের বাড়িতে চকচকে সোভিয়েত দেশ পত্রিকা আসে

তরুণকে জিগ্যেস করতে বলেছিল কমিউনিস্ট হয়ে যা ফ্রি পাবি 

পড়ার টেবিলের সামনে  দেয়ালে রুশ মেয়েদের উরু কেটে সেঁটেছে

অ্যালজেব্রা ট্রিগনোমেট্রি ফটাফট হয়ে যায়, চকাচক, জাস্ট টুসকি

আমাদের মধ্যে ও-ই বাড়ি থেকে হাত খরচ পায়, খাওয়ায়

একটা বাক্সঠেলা গাড়ি যাচ্ছিল, তরুণ সেইদিকে দৌড়িয়ে বলল

দাঁড়া আনছি, কাঠিতে জড়ানো মালাই, কুলফি কিংবা র‌্যাঁদামারা

রঙিন বরফকুচি নয়, দিল তররররররর হয়ে যাবে চাটতে চাটতে

কিনে এনে ঘাসে বসে মোড়ক খুলে পুরোটা মুখে ঢুকিয়ে চাটলো

এক -এক করে আমরা সবাই অমনভাবে তরররর-হৃদয়ে  চাটলুম

ঘুরে তরুণের কাছে পৌঁছোতে ও জিভ পাকিয়ে ডাঁটি চুষলো, বলল 

দেখলি তো, ভদ্দরলোকের পোলা থেকে কমিউনিস্ট করলুম তোদের










বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

পারিজাত

 

পারিজাত


নরম তোষকে পা ছড়িয়ে বসেছিলে তুমি, বালিশে হেলান দিয়ে

দামি আলোয়ানে ঢেকে রেখেছিলে পা পর্যন্ত

বললে, “আপনার কুখ্যাতি সৌম্যকান্তি করে তুলেছে আপনাকে”

এরকম কথা শুনে বিব্রত বোধ করেছিলুম, মনে আছে

তোমার সামনের ইরানি জাজিমে বসেছিলুম আমরা কয়জন

তোমার আত্মীয়কে ডেকে আমাদের দিয়েছিলে নেপালি পানীয়

গম থেকে তৈরি মদ, কাঁসার বাটি করে, সঙ্গে মোষের মাংস

বলেছিলুম, “তুমি ক্লিওপেট্রার মতো বসে আছো, তেমনই গর্বিনী”

বলেছিলুম, “তোমাকে দেখে সোয়ান লেকের ব্যালেরিনার কথা মনে পড়ে গেল”

চাদর সরিয়ে তুমি শৈশবে পোলিও আক্রান্ত পা-দুটি দেখিয়েছিলে

কতো সুন্দর লেগেছিল তোমার ওই দুইখানা পা, পারিজাত,

তোমার সাহসকে প্রণাম জানিয়েছিলুম

প্রতিষ্ঠানবিরোধী   নেপালি কবিতার সম্রাজ্ঞী তুমি