মলয় রায়চৌধুরী

মলয় রায়চৌধুরী

মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০

শুধু কবিতার জন্য

 

শুধু কবিতার জন্য


সখা হে, শুধু কবিতার জন্য 

হাতে হাতকড়া কোমরে দড়ি বাঁধা হেঁটেছি রাজপথে

সখা হে, শুধু কবিতার জন্য 

হাতে হাতকড়া কোমরে দড়ি উঠেছি লকাপে

সখা হে, শুধু কবিতার জন্য 

বাবার আলমারি ভাঙচুর করে দাদুর ফোটো ছিঁড়েছে পুলিশ

সখা হে, শুধু কবিতার জন্য

মায়ের তোরঙ্গ ভেঙে বিয়ের বেনারসি ছিঁড়েছে পুলিশ

সখা হে, শুধু কবিতার জন্য

লড়ে গেছি, মাথা পেতে নিইনি কারাদণ্ডের আদেশ

সখা হে, শুধু কবিতার জন্য

পঁয়ত্রিশ মাস কাটিয়েছি আধপেটা একই পোশাকে চান করিনি

সখা হে, শুধু কবিতার জন্য

পঁয়ত্রিশ মাস মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজেছি কলকাতায়

সখা হে, শুধু কবিতার জন্য 

একক বেঁচে থাকার আহ্লাদই জন্নত স্বর্গ হেভেন যাই বলো

সখা হে, শুধু কবিতার জন্য

বেপরোয়া লিখেছি যখন যেমন ইচ্ছে কাউকে পরোয়া করিনি

সখা হে, শুধু কবিতার জন্য

দলহীন স্তাবকহীন মলয় রায়চৌধুরী হতে সবাই পারে না

সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০

মৃত্যু আমার শিষ্যা

 

মৃত্যু আমার শিষ্যা


শিষ্যা, হিজড়েরা যাকে বলে চেলি, তার ক্লায়েন্ট  

সময় ঘনিয়ে এসেছে, যদিও আমায় ঘিরে থাকা রাধা

আর গোপিনীদের বয়স আমার চেয়ে বেশি -- রাধা ফুচকায়

টোকো-রক্ত ভরে খেতে ভালোবাসে --- মলয় কুবাতাস মেখে

মলয়াতুর জলে ডুব দিয়ে তারা আর উঠে আসেনি

আমি করোটিতে তাড়ি নিয়ে খেয়েছি -- গোপিনীদের

নাভির জড়ুলের ওপরে রেখে -- আমার নামের জড়ুল

তারা আমার মায়ের পেটের বোন, ভয় দেখায়, আমি মুখ খুলি

প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে চাপা দেয় আমাকে, কেননা আমার

মৃত্যু নেই, ক্ষয় নেই -- মানুষ হয়ে জন্মালে মরে যেতুম একদিন

এমনই অভিশপ্ত যে সারা দেহে সুন্দরবন - বাঘের ডাকে থমথমে

রক্তের মধ্যে বাজপাখিরা ডুবউড়াল দিয়ে দুর্নাম ছড়ায়

শিষ্যার টনক নড়েছে  অনন্তকাল মলয়ঝড়ের কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে

বলাই রেগেমেগে কানাইতে ঢুকে হল্লার হলকা তোলে -- মনে আছে 

তো ? মহাপ্রস্হানের হাইওয়ে জুড়ে লাশের পর লাশ খুবলে খেয়ে

বেঁচে ছিল কতো শিষ্যা তাদের বাবার অনেকগুলো সংসার বলেছেন

গোপিনীদের কাঁখে পদ্মার ইলিশের গান বিয়া করো নাই ক্যান

সাবধান হই আমার গলার ওপর পায়ের চাপ দিয়ে হুকুম দেন 

সত্য বল আমার মুখে তাড়ির ফেনায় শিষ্যাদের মুর্শিদি গান

আরে শিষ্যা ভয় পাস কেন ? আমি বিরাশি বছরের গুরুদেব !


















এ নাও সর্বস্ব দিচ্ছি

 

এ নাও সর্বস্ব দিচ্ছি


এ নাও সর্বস্ব দিচ্ছি, তোমার তালিকায় টিক দিয়ে নাও এক-এক করে

পাটিপত্র পানখিল দধিমঙ্গল গায়ের হলুদে পাঠিয়েছিলুম মাথা কেটে

পাণিগ্রহণ ধৃতিহোম অরুন্ধতী নক্ষত্র দর্শন সম্প্রদানে দিয়েছি হৃৎপিণ্ডখানা

এবার গায়ের হলুদে নাও হাতের রেখা থেকে সব নদী ও সমুদ্রের ঢেউ

সাতপাক শুভদৃষ্টিতে নাও শিরায় বয়ে-চলা মোৎসার্ট সিমফনি

মালা বদলেতে নাও আমার ঘামের গন্ধ সাভানার পুরুষ সিংহের

অঞ্জলি ও সিঁদুরদানে দিয়ে দিচ্ছি অণ্ডকোষ-ভরা শুক্রকীটের সামগান

সর্বস্ব চাইছ বলে দিয়ে দিলুম উদ্যত  লিঙ্গখানা উপড়ে তোমাকেই



রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২০

বিড়ালের রঙ

 

বিড়ালের রঙ


ঠিকই চিনেছি ; এই চিনা যুবতীই বাদুড়ের মাংস খেয়ে

পৃথিবীকে অতিমারীর কবরে ঢেকলেছে । দৌড়ে

জাপটে ধরি ওকে । কামড়ে ধরি ঠোঁট । কে জানে

বাদুড়ের গন্ধ কেমন কেননা মেয়েটার মুখ থেকে

যে গন্ধ পাচ্ছিলুম তা তো সোঁদা মিষ্টি সঙ্গমের ডাক--

আমার গলার মধ্যে জিভটা গলিয়ে দেয় আর সেটা

শঙ্খচূড় হয়ে নেমে যেতে থাকে তলপেট ছাড়িয়ে তলায়--

জাপটে নিয়ে আমি ওর যোনিকে শক্ত করে ধরি, আর

তখনই যোনির ভেতর থেকে বাইরে বেরিয়ে ওড়ে

চব্বিশ নদী  আঠারো পাহাড় জুড়ে ঝাঁক ঝাঁক

লাল রঙের নিশাচর ডানার বাদুড়, লাল টকটকে

একটা বাদুড়কে ধরে দেখি, আরে, বাদুড় তো নয়,

এটা তো মাও জে দঙের রেড বুক ! এখন বাদুড় !

যুবতীর ফিসফিসে কথা শুনে ইশারাটা টের পাই :

‘তোমার বিড়াল কালো বা সাদা যাই হোক , 

আসল কথা হলো ইঁদুর মারতে পারে কিনা৷'




















শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০

আমার যোনি কেন যে নেই

 

আমার যোনি কেন যে নেই


বিরাশি বছর বয়স হয়ে গেল অথচ আমার যোনি নেই

বৃহন্নলা মানে হিজড়েরা যোনি চায় 

হয় এই না হয় ওই হবার জন্য

আমার যদি যোনি থাকতো তাহলে তার চারিপাশে

পোস্ত আর গাঁজাগাছ গজিয়ে নিতুম

তারা আমায় নেশায় ঢেকে ফেলতো

আমার মধ্যে লিঙ্গ ঢুকে এলে পোস্তর আঠা মাখাতুম তাকে

গাঁজার গন্ধে হইচই ফেলে দিতুম দুধে ধোয়া শিবলিঙ্গের মতন

অনেকের লিঙ্গকে ঢুকতে দিলে কেমন লাগে জানতে পারতুম

খাজুরাহোর তরুণীদের ঢঙে পাথর থেকে বেরিয়ে

পাথরেও যে যোনি লুকিয়ে থাকে তা কেউ কি জানতো

কোণারকের পাথরের তরুণীদের আগে 

পুরীর মন্দিরের তরুণীদের আগে

ছেনি-বাটালি দিয়ে কুঁদে-কুঁদে আদর করে তৈরি যোনি

আমিও খাজুরাহো কোনারক পুরী মীনাক্ষী মন্দিরে

লাবিয়া ম্যাহোরা খুলে দেশি-বিদেশি শ্রদ্ধালুদের দেখাতুম













বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০

প্রেমিকার দুধ

 প্রেমিকার দুধ


আমি কখনও কোনো প্রেমিকার স্তনে দাঁত বসাইনি

প্রথম প্রেমিকারও নয়, যার 

বুকের দুঃখি পরাগরেণু আজও গালে লেগে আছে

মায়ের তো দুধই হতো না অতিফর্সা বুকে, তাই

ছোড়দি কোলে করে নিয়ে যেতো 

পাড়ার বউদের কাছে ; কাহার কুর্মি ডোম দুসাধ চামার

এমনকি দুস্হ মুসলমাননির এঁদো ভাঙাচোরা ঘরে

মায়ের স্তনে কিংবা সেইসব বউদের মাইয়েতে দাঁত

বসালে নির্ঘাৎ পাছায় চপেটা খেতুম--

তবে আজ ঘনদুধ খাই, সবুজ রক্তাভ নীল 

শাড়িপরা যুবতীর মাই থেকে

টিপে টিপে দুই বেলা দুধ বের করি

শেষ ওব্দি  শাড়িও খুলে ফেলে যেটুকু দুধ বাঁচে

তাও বের করে নিই ঘুম থেকে উঠে আর ঘুমোতে যাবার আগে

দাঁতকে ঝকঝকে করে তোলে ওনাদের দুধ

সেই বয়ঃসন্ধির পর যখন ভস্ম থেকে ছাড়া পেয়ে

টুথ পেস্ট টিউবের মাই থেকে 

প্রতিদিন টিপে টিপে দুধ বের করি









বখতিয়ারের ঘোড়ার বংশধর

 

বখতিয়ারের ঘোড়ার  বংশধর


বিহারশরিফে পৌঁছে দেখি বাস নেই ট্যাক্সি নেই

অগত্যা এক্কাগাড়িঅলাকে বলি

আরে টাঙ্গা, যাবি নাকি ? 

তোর ঘোড়াকে খেতে দিস না ? এমন হাড়গিলে ? নাম কী তোর ?

আমার নাম মিনহাজ হুজুর বলল এক্কাগাড়িঅলা ।

হাত দুটো লম্বাটে,  এরকম বেঁটে কেন তুই ?

ছোটাস কেমন করে গাড়ি ?

হুজুর জমানা পহেলে বখতিয়ার খলজি নামে তুর্কি এক লুটেরার সেনারা

এ-তল্লাটে এসে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে মেয়ে-বউদের ইজ্জত লুটেছিল

আমি সেই তাদের ঔরসের পয়দায়িশ--

আর হুজুর এটা ঘোড়া নয়, এটা তো খচ্চর

বখতিয়ারের ঘোড়ারাও এখানকার ঘোড়িদের ইজ্জত লুটেছিল

এই বেজন্মা খচ্চর তাদের ঔরসের পয়দায়িশ

ওরা সব কালা অকছর ভঁয়েস বরাবর ছিল

ন্যাড়ামাথা পড়ুয়ার দল আর হাজার-হাজার বই দেখে

নালান্দায় আগুন লাগিয়ে নেসতানাবুদ করে দিয়েছিল--

চলুন, বসুন, বলুন কোথায় যাবেন...