মলয় রায়চৌধুরী

মলয় রায়চৌধুরী

সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০১১

প্রিয়াংকা বড়ুয়া

প্রিয়াংকা বড়ুয়া তোর
ঠোঁটের মিহিন আলো
আমাকে দে না একটু

ইলেকট্রিসিটি নেই
বছর কয়েক হল
আমার আঙুলে-হাতে

তোর ওই হাসি থেকে
একটু কি নিভা দিবি
আমার শুকনো ঠোঁটে

যখনি বলবি তুই
কবিতার খাতা থেকে
তুলে দিয়ে দেব তোকে

আগুনও আছে নাকি
তোর দেহে কোনো খাঁজে
চাইতে বিব্রত লাগে

জোনাকির সবুজাভ
আলো থাকলেও চলে
দে না রে একটুখানি

ঠোঁট যে শুকিয়ে গেছে
প্রিয়াংকা বড়ুয়া দ্যাখ
কবিতা লেখাও বন্ধ

তোর দেয়া কবেকার
অন্ধকারে এখনও
হাতের আঙুল ডুবে

পপির ফুল

বোঁটায় তোর গোলাপ রঙ অবন্তিকা
শরীরে তোর সবুজ ঢাকা অবন্তিকা
আঁচড় দিই আঠা বেরোয় অবন্তিকা
চাটতে দিস নেশায় পায় অবন্তিকা
টাটিয়ে যাস পেট খসাস অবন্তিকা

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১১

তোর সুগন্ধ, মুখপুড়ি

ঠিকই বলেছিলি,মুখপুড়ি, থাকুন না সঙ্গে সবসময়, কোঁকড়া দুর্গন্ধ হয়ে,
দেহের নৌকো জুড়ে, আগাপাশতলা, নোনা বাঁকে মাছেদের অপলকা ঝাঁকে
কোথাও অ্যাড্রেনালিনে নীল তাঁতে-বোনা গোড়ালি গন্ধকে মাখা ভিজে-নাচ
চামড়ায় মরে-যাওয়া জং-ধরা হাঙরের মিষ্টি হাঁ-মুখ ভরা খিলখিল আলো
খুঁজুন না যা চাইছেন, ভিনিগারি ঘামের রোদ্দুর, গ্রন্হিল জ্বরের নিঃশ্বাস
ছানাকাটা দুধেল উত্তাল, তাও হরমোনের তরল বারুদে তিতকুটে
বলেছিলি তুই, প্রেম, ছ্যাঃ, সুগন্ধ তো বানানো নকল তার সাথে, ডারলিং
মাংসের মেদের মজ্জার আত্মীয়তা নেই। পেতে হলে শুধুই দুর্গন্ধ নিতে হবে
যা তোর একান্ত আপন, বলেছিলি । চারিপাশে বাতাসের নিভাঁজ জারকে
তোর ওই ঘোষণা উড়ছে: সি ইউ... সিউ ইউ... সি ইউ... সি ইউ...

ফেলে গিয়েছিস তোর লনজারি তপ জিন্স বক্ষবন্ধনী হাইহিল। কই তোর
দুর্গন্ধ কোথাও তো নেই মুখপুড়ি; ফেলে-যাওয়া কিছুতেই নেই। সবই
ভিনিভিনি খুশবু মাখানো। যতক্ষণ ছিলি, তোর গা থেকেও ওই একই
পারফিউম উড়েছে, বানানো নকল; তোরই মতন মুখপুড়ি, কথার
ফেনানো জালে টোপ বেঁধে যা তুই ফেলেই চলেছিস প্রতিরাত প্রতিদিন।
তাহলে ফালতু তোর সি ইউ... সিউ ইউ... ডাক, হাতছানি, উদোম ইশারা।

বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১১

মরে গেলি , অরুণেশ ?

মরে গেলি ? সত্যিই মরে গেলি নাকি অরুণেশ ? 
রূপসী বাংলার খোঁজে আসঙ্গ উন্মুখ শীতে বেপাড়া-ওপাড়া ঘেঁটে
শেষমেশ জিলের সবুজ ঝাঁঝরিতে ডুব দিলি ! যবাক্ষারযানে কালো
বিষগানে আধভেজা উলুপীর সাপ-রক্ত মিঠেল শীৎকারে
হৃদযন্ত্রে দামামা বাজতেই বুক খামচে জলে নেমে গেলি
বাড়িতো পিছনে ছিল, সেদিকে গেলি না কেন ? ডাঙার গেঁজেল হায়নারা
যৌবনে ভালবাসা পেয়েছিল তোর, যখন অতৃপ্ত ছিলি ? কী খাচ্ছিল
কে খাচ্ছিল নৌকোর পালে আঁকা তোর রাগি নমস্কার ? দেখেছিলি
মোমে-জোড়া ডানা গলে ইকারাস সমুদ্রের আঁশটে ঘূর্ণীতে নেমে গেছে
নিরিবিলি ওফেলিয়া পিরানহা মাছেদের বন্দনা মেশানো ঝাঁকে
ড্রাগন উৎসবের ডিঙি থেকে ঝাঁপ দিলেন সৌম্য কুউয়ান
ফেনার ওপরে লেখা কীটসের নশ্বর অক্ষরমাংস ঠোকরায় চিল
হয়তো কাঁকড়ারা বুজকুড়ি কেটে-কেটে লি পোর কবিতা পোড়ে
শোনাচ্ছে নাটালি উডের লাশে ভাসমান কাক গৃহিনীকে
হার্ট ক্রেনও আছে নাকি তোর পাশে শুয়ে কিংবা ঠোঁটে
চুমু কি দিচ্ছেন ওর নগ্ন আলিঙ্গনে টেনে ভার্জিনিয়া উলফ ?
বউ ফেলে ষোড়শী মেরিকে নিয়ে কাটলেন পিসি বিসি শেলি
দেখলি ডন হুয়ান নয় ; তিন দশকে ফ্র্যাংকেনস্টাইন খুড়ো
জলে-পচা রাসপুতিন ছিঁড়ে খেলো তোর প্রিয় রূপসী বাংলাকে
স্বপ্নের নীল নদে, টাইবার নদীতে, রাইনে, লিমমাতে, তিস্তায়
অ্যামস্টারডামের খাল যার দুই ধারে রোজ বেশ্যা প্রেমিকারা
রক্তাক্ত আলোয় বসে উলঙ্গ গোলাপি খুলে সন্ধ্যা ফেঁদেছেন
পরমহংসের শোক শিখেছিলি রেঁবোর আবসাঁথ পান করে
অথচ ঠান্ডা রক্তে জড়িয়ে ধরল জল ভালবেসে তোকে
উকুন ও ছারপোকার কামড়ের মাঝে তৃপ্ত ঘুম ছেড়ে হ্যাঁ রে
নেমে গেলি অমৃতমন্হনের ডাকে-- কোন দিকে যাবি তুই
বুঝতে না পেরে অসুর ও দেবতার মাঝে পিষে গেলি, আজীবন
পিষে গেলি...পিষে গেলি...পিষে গেলি...পিষে গেলি...পিষে...

শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১১

মর মুখপুড়ি

এই বেশ ভাল হল অ্যামি, বিন্দাস জীবন ফেঁদে তাকে
গানে নাচে মাদকের জুয়ার পূণ্যে অ্যামি, কী বলব বল,
অ্যামি ওয়াইনহাউস, অ্যামি, আমি তো ছিলুম তোর
জানালার কাচ ভেঙে 'ল্যাম্ব অফ গড'এর দামামায়
বাজ-পড়া গিটারের ছেনাল আলোয় চকাচৌঁধ ভাম,
অ্যামি, আমি তো ছিলুম, তুই দেখলি না, হের্শেল টমাসের
শিয়রে বিষের শিশিমাধুকরী লেপের নিঃশ্বাসে, অ্যামি
স্তনের গোলাপি উলকি প্রজাপতি হয়ে কাঁপছি
লাল রঙে, অ্যামি, অ্যামি ওয়াইনহাউস, মুখপুড়ি,
হ্যাশের ঝাপসা নদী কোকেনে দোলানো কোমর, চোখ
ধ্যাবড়া কাজলে ঘোলা, ঠিক যেন বাবার রিটাচ করা
খুকিদের নকল গোলাপি ঠোঁট বয়ামে ভাসাচ্ছে হাসি
সাদা-কালো, হ্যাঁ, সাদা-কালো, ব্যাক টু ব্ল্যাক গাইছিস
বিবিসির ভিড়েল মাচানে কিংবা রকবাজ ঘেমো হুললোড়ে
আরো সব কে কী যেন ভুলে যাচ্ছি ভুলে যাচ্ছি ভুলে...
ওহ হ্যাঁ, মনে পড়ল, ক্রিস্টেন পাফ...জনি ম্যাককুলোস...
রাজকমল চৌধুরী...অ্যান্ড্রু উড...কেসি কালভার...  
ফালগুনি রায়...সেক্স পিস্টলের সিড ভিশাস...ডার্বি গ্রেস...
হেরোইন ওভারডোজ, ছ্যাঃ, ওভারডোজ কাকে বলে, অ্যামি
ওয়াইনহাউস, বল তুই, কী ভাবে জানবে কেউ নিজেকে
পাবার জন্য, নিজের সঙ্গে নিজে প্রেমে পড়বার জন্য...
য়ুকিকো ওকাকা গাইতে-গাইতে ছাদ থেকে শীতেল হাওয়ায়
দুহাত মেলে ঝাঁপ কিংবা বেহালা হাতে সিলিঙের হুক থেকে
ঝুলে পড়া আয়ান কার্টিস কত নাম কত স্মৃতি কিন্তু কারো
মুখ মনে করা বেশ মুশকিল, তোর মুখও ভুলে যাব...
দিনকতক পর, ভুলে গেছি প্রথম প্রেমিকার কচি নাভি
শেষ নারীটির চিঠি আত্মহত্যার হুমকি ঠাসা, হ্যাঁ রিয়ালি
কী জানিস, তাও তো টয়লেটের অ্যাসিডে ঝলসানো হার্ট
নরম-গরম লাশ, হাঃ, স্বর্গনরক নয়,ঘাসেতে মিনিট পনেরো
যিশুর হোলি গ্রেইল তুলে ধরে থ্রি চিয়ার্স বন্ধুরা-শত্রুরা
ডারলিং দেখা হবে অন্ধকার কোণে, উদাসীন খোলা মাই
দু ঠ্যাং ছড়িয়ে, এ কোন অজানা মাংস ! অজানারা ছাড়া
আর কিছু জানবার জানাবার বাকি নেই অ্যামি, সি ইউ...
সি ইউ...সি ইউ...সি ইউ...সি ইউ...মিস ইউ অল...

শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০১১

বিষবাউলের গান

মলয় মলয় মলয় মলয় মলয় মলয়
শুনতে শুনতে দেখতে দেখতে শুনতে শুনতে
এই নাম আর দেয়া যাবে না ছেলেকে নাতিকে
নামের ভেতর কোনো নরম নদীর নারী নেই
জোনাকি মালায় ওর হরিণীরা সঁপেনাকো গলা
শীতের হাওয়ায় নেই আমলোকি-পাতাদের নাচ
কী রেখেছে তাহলে ছাইপাঁশ ?
বানভাসি-ফেলে-যাওয়া ধানখেতে হাঁটু-ডোবা বালি...
আঁস্তাকুড়ে ফেলে-যাওয়া ভ্রুণ...
শুয়োরের পচা মাংস তেবাষ্টে হাঙরের নোনামাছ...

২
ফ্ল্যাট বিক্রি করে চলে যাচ্ছে এ-শহর ছেড়ে
৩৮৯৭ টি কবিতার বই বিলিয়ে দিতে চেয়েছিল
নেবার জন্য পাওয়া গেল না কাউকে
কবিতার বই রাখবে না কোনো গ্রন্হাগার
পাঠক নেই দেখভালে খরচ কে দেবে
জাতীয় গ্রন্হাগার কপিরাইট আইনে বই পায়
রাজ্য গ্রন্হাগার রাখে পার্টির লোকেদের বই
কারোর বাসায় অত জায়গা নেই তরুণ কবিদের
অতি ভালবাসা-মাখা কবিতার বই রাখবার তাক
মলাট বাদ দিয়ে কিলো দরে কিনতে রাজি
পোরোনো কাগজঅলা...প্রেম হাসি ক্রোধ সংবেদন
শতশত উপহার নেবার জন্য কোনো লোক নেই
পত্র-পত্রিকা জুড়ে হাজার হাজার সমালোচনার ঝাঁক
সবই ফালতু বুঝি ? মগজ ধোঁয়াটে হয়ে ওঠে
এত বই এত এত পত্রিকা কোথায় যাচ্ছে চলে ?
তিরিশের পর থেকে ? দুই বাংলা জুড়ে !
বাংলার টিচার ঠিক বাতলেছিলেন ক্লাসে:
টেকার জন্যে চাই কুখ্যাতি-দুর্নাম-বিষবাউলের গান
এ-সময় সে-সময় নয় : সে-সব বাউল আজ মৃত।

৩
কাহার কুর্মি ডোম দুসাধের ছোটোলোক পাড়া
শৈশব কি গ্রন্হহীন ছিল ? কবির রহিম দাদু
তুকারাম থিরুভাল্লুভার রামচরিতের ছেঁড়া পাতা ?
এতটা আসার পর পিছন ফিরলে দ্যাখে
সেদিকে কিচ্ছু নেই, দিগন্তবিহীন পচা-ছেঁড়া-ছাতাপড়া
দশ-বিশ-হাজার টাকা নোটের দুর্গন্ধে টেকা দায়
কী হবে তাহলে ? সযত্নে আদরে রাখা কাব্যগ্রন্হগুলো ?
বাড়ি তো বিক্রি হবে চারদিন পর নতুন মালিক
বলেছেন: না না ওসব বই ফই গতি করুন
কারা পড়ে মশায় রবিঠাকুরই তো শুধু সাজেগোজে
তো আপনাদের এই বেআফিমি কারেস্তানি নেশা...
ওই তো মিউনিসিপালিটির জঞ্জালের ভ্যাট
কাগজকুড়ানিরা আসে দলবেঁধে সকালবেলায়
ক্যানিঙের ট্রেনে ভাড়া লাগে না কারোর

৪
বাবা বারণ করতে পারতেন মা বারণ করতে পারতেন
শিক্ষক বলেছিলেন ওহে ঠাঁই নেই ছোটতরীর মানে
নরম নদীর নারী সোনাগাছি নিয়নে থাকুন
নদী থাক গলাটেপা বাঁধের বেড়ায় বাঁধা
হরিণ ঝুলতে থাক শিকারীর রঙিন দেয়ালে শিং তুলে
জোনাকিরা চলে যাক ফিনফিনে এনডোসালফিনে
আমলোকি গলে যাক রামদেব-আশ্রমের চিমচিমি-মোড়কে
শহরে আর আঁস্তাকুড়েরও জায়গা নেই
বলেনিকো কেউ ? কবির রহিম দাদু কৃত্তিবাস
কাশিরামদাস ময়মনসিংহী গান লেখকেরা ?
এত কবিতার বই এত কবিদের লেখা শ্বাস-প্রশ্বাস

৫
ওরই নামের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে থাকবে আঁস্তাকুড়
কলেজ স্ট্রিটের পথে ডাস্টবিনে ফেলে-দেয়া ভ্রুণ
থাকবে ধাপার মাঠ শহরের জঞ্জালের বিরাট পাহাড়
নামের ভেতর মৃদু হাওয়া নয় নশ্বর অবিশ্রাম ঝড়...

( শব্দপাঠ পত্রিকার চতুর্দশ সংখ্যা ২০১১-এ প্রকাশিত )

মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০১১

৬৫টি হাইকু

১
অঙ্কের দোষ
সাধক কবিও লেখে
মাত্রা গুনে গুনে
২
ফেসবুক আছে
অরকুট টুইটার আছে
তবু থাকে একাকীত্ব
৩

ভূমাধ্যাকর্ষণ
আলো ও ক্যালকুলাস---
নারীদেহ ছোঁননি নিউটন
 ৪
বসন্তে মৌমাছি
আফিমের ফুল থেকে
মাদক পেল না
৫
শীতকাল--
কোথায় পোশাক রাখল
স্বপ্নের নগ্ন যুবতী
 ৬
সকলেই জানে টাকমাথা
কবিটি মিথ্যাচারী এবং অসৎ
তাই বলে ওনার গবেষকও

ব্যায়াম ব্রেকফাস্ট ভিড়
অফিস ভিড় বাড়ি টিভি সঙ্গম
মাসে লাখ টাকা
৭
শুধু শোনো
বন্ধ রাখো মুখ
কমরেডগণ
৮
ক্যাটরিনা কাইফ
জানেন সুন্দরী নিজে
চোখের নকল পাতা কেন
 ৯
কটা বেজেছে
জানতে চায় লোকটা
এক মুহূর্ত থেমে যায় পৃথিবী
১০
খরার খেতের মাঠ--
হাজার হাঁ-মুখ খুলে রূপসী বাংলা
নিঃশব্দে হাসছেন অট্টহাসি
১১
মলে ও মার্কেটে
দল বেঁধে ঘোরে যুবতীরা
স্বপ্নে শুধুই একজন
১২
মরা গাছ
নিজেকে নিয়েই সুখী
বৃষ্টি বাদলায়
১৩
সেলফোন--
রঙিন নানান গেমখেলা
বিদেশী নারীর কন্ঠ
১৪
এক দশক বন্দুকে
আঁকাআঁকি কবিতায় আরেকটি
ব্যবসার পাট কবে হবে
১৫
চরসের ধোঁয়া---
স্মৃতি থেকে অতীত ও বর্তমান
মুছে ফেলল কাশ্মিরী বালক
১৬
যে কবিরা
রাজনেতাদের সাথে ঘোরে
সংসারেও রাজনীতি করে
১৭
নগ্ন নারীদেহ
কতবার দেখেছে ফেরারি
ধারাবাহিক হত্যা করে তবু
১৮
শোপ্যাঁ...শোপ্যাঁ...
ডানা বাজাচ্ছে ঝিঁঝিঁ
শ্রাবণ সন্ধ্যায়
১৯
একা থাকে
কথা কইতে চায় না
খারাপ হবে কেন
২০
আওয়াজ...
বাজির আলো
জড়িয়ে ধরার সুযোগ
২১
পাকা বটফল টুপটাপ
মাটি থেকে তুলে নিলেন গৌতমবুদ্ধ
অসুস্থ কাঠবিড়ালি
২২
ওপারে তাজমহল
শাজাহান দেখছেন দূষণে নোংরা মার্বেলপাথর
কালো তাজমহল এলো
২৩
পাক খেয়ে উঠছে শাড়ি
নারী অঙ্গের বাঁকে নেচে উঠছে
মরা পলুপোকা
২৪
চিনিমুখে পিঁপড়েরা
আখগাছের গোড়ায় সুখের বাসা পিঁপড়ের
চাষির কাস্তে
২৫
ঘুণপোকার উন্নতি
ভালো বা খারাপ সময়টা যারই হোক যাই হোক
মহামহিম মহামহিম
২৬
লোডশেডিঙের গ্রীষ্ম
এমনকী দেশি পোষা কুকুররাও ডাকছে
ঝরঝরে তুষার
২৭
পুরুষ শাঁখ: কে বেশি সুন্দরী?
মাদি শাঁখ নাকি শাঁখা-রুলি পরা বউটি!
কলম হারিয়েছে
২৮
বালিতে জুতোর দাগ
বর্ষা এলে বাঁকবদল চায়নি নদী
শরতের খরা
২৯
পথে পায়রার ঝাঁক
থলে থেকে গম উপুড় করে গেছেন ব্যবসায়ী
ভিখারির কাশি
৩০
আমাদের শান্তি....নিকেতন
ফুল ও শাড়ির রঙে বসন্তের নাচ
ওপচানো ট্রেন
৩১
পাতালপুরীতে ফাল্গুন
দরজায় কড়া নাড়ছে মৌরলাঝাঁক
মেয়েটির ভাসমান লাশ
৩৩
যতটুকু ঝুঁকে দেখা
বাতাসে ছড়ানো আকাশ
ল্যাজের রক্তাভ আলো
৩৪
কোমরে হাত মেয়েটি
সম্রাট অশোক কাঁদছেন
কালো ঠান্ডা পাথর
৩৫
মেঠোপথে লাশ
লেবু পাতায় সবুজ টুপটাপ
স্যাঁতসেঁতে ঘাসফড়িং
৩৬
সুন্দরী পাতার রস
রক্তাক্ত হাত ছেলেটির
মৌয়ালিরা ফিরছে মধু নিয়ে
৩৭
শ্মশানে ধোঁয়ার কুন্ডলী
জলে চিংড়ি মাছের ঝাঁক
গৌতমবুদ্ধ হেঁটে গেলেন
৩৮
হাসছে বুড়ো লোকটির ভুঁড়ি
আমের গাছে লাল-হলুদ
কেউ একজন চুমু খেল
৩৯
শিমুলগাছে কোকিলের গান
আঁস্তাকুড়ে ভিড় বাড়ছে
কবিরদাস দোহা গাইতে-গাইতে গেলেন
৪০
বর্ষার প্রথম সকাল
বারান্দায় বাবার চটিজোড়া
ডাকপিওনের হাঁক
৪১
মুম্বাইয়ের তিরিশতলায়
নাকতলার গলি
কুকুরের পেছনে ছোঁড়ারা
৪২
ছাদে কাপড় মেলছে বউটি
দড়িতে ঘুড়ি আটক
দুপুরের গান
৪৩
দ্রুতিমেদুর শ্বেতাঙ্গিনীরা
অকেজো কমপিউটার
মেকানিকের মুঠোয় তিনগুণিতক
৪৪
আকাশে ২৩৮ প্রার্থনায়
পিছলে গেলেন ইষ্টদেবরা
পেট্রলগন্ধী দাউ-দাউ
৪৫
দিশি বন্দুকের ফটকা
আলকুশির রোঁয়া
উড়ছে। গোলা পায়রার ঝাঁক
৪৬
শিশির ভেজা ঘাসে
আজ সবুজ পায়ের দাগ
বৈরাগির দোতারায় সন্ধ্যা
৪৭
খুপরির অন্ধকার দিকটিতে
পিছন ফিরে পূর্ণিমা
ভিখারিণীর নোয়া
৪৮
জ্বলন্ত শহরের ছাইয়ে
গ্রিক সেনাপতি মিনান্ডার। পাটুলিপুত্রে
নাগার্জুন ধুলো মাখছেন
৪৯
কুয়াপুজোয় নাচছে হিজড়েরা
রাধেশ্যাম রাধেশ্যাম
কেঁদে উঠলো নতুন মানুষ
৫০
আঙিনায় থই-থই
ঝলমলে খিচুড়ির অমলতাস
প্রগাঢ় চোখমুখ
৫১
গোধুলি লগ্নের পানের বরজে
অশ্রুসজল রুমাল
বিসমিল্লা খান
৫২
জুজুধান ঝড়ে বনজ
মণিপদ্মে গোণ্ড-মুর্মু-ওঁরাও; উনি
অশথ্থ গাছের তলায় চোখ বুজলেন
৫৩
একটি মৃতদেহ
সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলে আছে
পুরুষ মাকড়সা
৫৪
দুরুদুরু শ্মশান
সাজানো কাঠের ওপর চোখ বুজে
ছানাসহ কুকুর
৫৫
শ্রাবণের দ্বৈরথে ফ্ল্যাটবাড়ি
দেড়শো বছর লড়ে পড়ে গেল
পায়রারা পথে
৫৬
চোরেদের স্মৃতি
রবীন্দ্রনাথের চটি রয়েছে শোকেসে
মাপে বড্ডো বড়
৫৭
রক্তাক্ত কৃষক
ঝুঁকে আছে ধানের শীষ
অস্থির মাঠে
৫৮
মহাষ্টমী
গরদ-নোলক গৃহিনী
হাতে ব্ল্যাকবেরি
৫৯
রূপোলি টাকা
সিঁদুর মাখা
বৃষ্টির অপেক্ষায়
৬০
তৃতীয় বউকে নিয়ে
প্রথম ট্রামে
মৌলভি যুবক
৬১
চৈত্রের বাতাস
নিখুঁত চাঞ্চল্য
যুবতীর আঁচলে
৬২
পাকা আম
পাড়তে বারণ করছে
গ্রীষ্মের লুবাতাস
৬৩
সোজা গিয়ে বাঁদিকে
কানা গলির শেষে
প্রেমিকার শ্বশুরবাড়ি
৬৪
মাইকে বলিউডি গান
পোস্টারে মার্কস
বিশ্বকর্মা পুজো
৬৫
ওনার বিড়াল
আমার বাড়ির মাছ
তাঁর আনন্দ