মলয় রায়চৌধুরী

মলয় রায়চৌধুরী
প্রেমের কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রেমের কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১

গন্ধের প্রণয়

 

গন্ধের প্রণয়

মলয় রায়চৌধুরী

মহাভারতের গন্ধ মেখে আসে, খোঁপায় কণকচাঁপা গুঁজে

আমাকে ফুসলিয়ে পচা মাছগুলো চাপিয়ে দেবে বলে

রবীন্দ্রনাথের কৃষ্ণকলি রামপ্রসাদ-রামকৃষ্ণের শ্যামা

সত্যি মেছুনিটা কালো অথচ সমুদ্রের উত্তাল আদরে

গোড়ালি গোলাপি ; সারা দেহে লইট্যার টাটকা-নরম

বুকের খাঁজ জুড়ে জাল-পলায়নরত মাছের উড়াল

চিংড়িগুলোকে ইশারায় টিপে ও দামের বার্তা দেয় 

এ-নাও সুরমাই, রাওয়স, ভারতের তেলালো স্যামন

পাপলেট, ওহ পমফ্রেট, নিলে জোড়া নিতে হবে, ভাবো

এইখানা তুমি আর তার পাশে আমি, নয়তো গেদারে

লিপস্টিক-রঙা  এ-হল টিউনা মাছ  দ্যাখো দ্যাখো ছুঁয়ে

মেছুনির চোখে নিরক্ষর  পৌরাণিক ফাঁদে পড়ে কিনি

ইশারার  উপমাগুলো ওর উত্তরাধুনিক প্রেম মনে করে


 

 

 

 

 

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১

আজল

 

আজল

মলয় রায়চৌধুরী

কেমন পুরুষ তুমি ? আজল জানো না !

কী বিশাল যৌবন পড়ে আছে ! আজল জানো না ?

এরকম দীর্ঘ দেহ সৌম্যকান্তি উজ্বল শ্যামবর্ণ সুপুরুষ তুমি

অথচ জানো না প্রেমের গূঢ় উন্মোচন ! জানো না আজল !

অনেক প্রেমিকা পাবে - কুচ্ছিত কিংবা সুন্দরী

কাজলনয়না বা কুতকুতে মোঙ্গোল চোখ

পীনোন্নত ময়ূরের মতো গলা কিংবা বেঢপ থপথপে

চকচকে কৃষ্ণাঙ্গিনী অথবা চাঁদের আলোর ত্বক মেয়ে

কী করবে অমন প্রেমিকা পেলে ? ছেড়ে দেবে ?

এই তো তরুণ হয়েছ সবে ! শিখে নাও শিখে নাও--

আজল কাহাকে বলে ।।


রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

দাম্পত্য

তখন আমরাও নোংরা এমনকী অশ্লীল কথাবার্তা
করেছি বলাবলি, হেসেছি রাস্তার মাঝে কেননা আমাদের
ভাষা কেউই তো বুঝতো না । তখন বুড়ির ঢেউ-চুল
কোমর পর্যন্ত সুগন্ধ মাখানো, মুখ গুঁজে ঘুমোতুম তাতে--
চোখ দুটো, বুকও বড়ো-বড়ো, যা দেখে বড়দি বলেছিল
আমরা এরকম কনে তোর জন্যে খুঁজেই পেতুম না
তার আগে পীরিতের কতো খেল দেখিয়েছিলিস বাবা
তুই ঠিক ঈগলের মতো তুলে আনলি সাবর্ণ চৌধুরীর বাড়ি
তখন বুড়ির জামদানি আঁচল উড়তো ময়ূরপঙ্খী হয়ে
মোজেক মেঝেয় ব্যালেরিনা হিল তুলতো সাম্বা নাচের ছন্দ।
একান্ন বছরে বুড়ির স্মৃতি থেকে হারিয়ে গিয়েছে সেসব ;
মাঝে-মাঝে বলে তোমার গোঁফও ছিল রাজকাপুরের।
বুড়ির পছন্দ মর্ত্যের হানি বাফনা আর ইন্দ্রজিৎ বোস
আমি সুচিত্রা সেন নার্গিস মধুবালাকে আজও ভালোবাসি--
বুড়ো বয়সে পৌঁছে বুড়ি বলে এটাই দাম্পত্য-জীবন
যৌবনে সংসারের খাইখরচ-ঝক্কি-ঝামেলায় টেরই পাইনি
দাম্পত্যের শেষ পর্বে শোক-দুঃখ-অপচয়ও আনন্দ আনে।

রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

নরম


হে নরম তুমি চরম কঠিন কঠিনতম
হে নরম জীব-জগতের কী এক বিস্ময়
বিচলিত ঠোঁট খুলতে  উৎসাহ কেন দাও
মুঠোর আঙুলও মেলে ধরো হে নরম তুমি 
দেহ থেকে আচমকাই মেঝেতে ফেলে দাও
নরম মেলে ধরবে বলে হে নরম তুমি
চরম কঠিন কঠিনতম তুমি তবুও নরম

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

যোনি

যোনি
হে অলুক বহুব্রীহি জিভ, তুমি হৃদয় পর্যন্ত যাও
প্রতিটি স্বাদকণা গোলাপি মাংসে নিয়ে তাকে বলো
এই তিক্ত, এই কষায় এই মিষ্টি এই নুন এই মন্ত্রবীজ
রেখে যাচ্ছি মহাসরোবরে প্রোষিত-বার্তাবাহকের
নির্বাক সংলাপে, এই জিভ উৎসর্গ করলুম গহ্বরে
তুমি স্পন্দ তুমি নীড় তুমি কর্মলক্ষ্মী-অবতার
এই নাও এই নাও এই নাও সর্বস্ব এই নাও নাও এই

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০

আমি তো কেউ নই

আমি তো কেউ নই
উৎসর্গ : সোনালী চক্রবর্তী


আমি তো কেউ নই, তুমি তো বিখ্যাত
কেউ না হওয়াও কি খ্যাতির প্রতিচ্ছায়া নয় ?
তুমি তো জ্যোতির্ময়ী, তুমি তো অবিনশ্বরী
আমি তো কেউ নই, তুমি তো পরমাপ্রকৃতি
আমি প্রকৃতির অংশ, যৎসামান্য, বলা যায়
উষ্ণতম মলয়বাতাস, আমি কার্তিকেয় যোদ্ধা
অথচ কেউ নই । কেউ না হওয়ায় যে আনন্দ
তা তুমি বুঝবে না আমি তো আমিও নই
কেউ নই কিছু নই অস্তিত্ববিহীন তুমি ছাড়া
তোমার হাত ধরে অন্ধ আমি ইতিহাসে
তোমার সঙ্গে থেকে যেতে চাই

বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০১৭

বুড়ি

এই বুড়ি আমার দিদিমার বয়সী
চুল পেকে গেছে, কয়েকটা দাঁত
নেই, দিদিমার মতন শুয়ে থাকে--
কবে শেষ হয়ে গেছে পুজো-পাঁজি
ক্যালেণ্ডারে ছবি-আঁকা তিথি
দিদিমার মতো এরও প্রতিরাতে
ঘুম পায় কিন্তু আসে না, স্বপ্নে
কাদের সঙ্গে কথা বলে, হাসে
চোখে ছানি তবু ইলিশের কাঁটা
বেছে ঘণ্টাখানেকে মজে খায়
দিদিমার মতো, বলেছে মরবে
যখন, চুড়ি-নাকছাবি খুলে নিয়ে
পাঠাতে ইনসিনেটরে, এই বুড়ি
চল্লিশ বছর হলো সিঁদুর পরে না
পঞ্চাশ বছর হলো শাঁখাও পরেনি
দামি-দামি শাড়ি বিলিয়ে দিয়েছে
দিদিমা যেমন তপ্ত ইশারায়
দাদুকে টেনে নিয়ে যেতো রোজ
এও আমাকে বলে এবার ঘুমোও
আর রাত জাগা স্বাস্হ্যের পক্ষে
খারাপ, এই বুড়ি যে আমার বউ
বিছানায় শুয়ে বলে, কাউকে নয়
কাউকে দিও না খবর, কারুক্কে নয়--
এ-কথাটা আমারই, কাউকে নয়
কারুক্কে বোলো না মরে গেছি ।
 

সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

শাশুড়ির জন্য প্রেমের কবিতা

বাঁশদ্রোণী বাজারে শাশুড়িদের ভিড়ের ভেতর হাঁটতে-হাঁটতে আমি
আমার শাশুড়িহীন জীবনের অভাব মেটাবার চেষ্টায়
ভারি-ভরকম এক শাশুড়িকে বলি, দিন থলেটা, পৌঁছে দিচ্ছি--
উনি বলেন, না, আমার ড্রাইভার আছে
একজন শাশুড়ির কাছে কি তাহলে ড্রাইভারের গুরুত্ব বেশি !
বোঝা উচিত ছিল, কেননা ওনার শাড়ি থেকে 
বিদেশি পারফিউমের সুগন্ধ পাচ্ছিলুম
আরেকজন শাশুড়ির কাছে গিয়ে জামাইষষ্ঠীর দিনের অভাব মেটাবার জন্য
কিছু বলার আগেই উনি বলে ওঠেন
ও বাবা একটু মাছটা টাটকা কিনা দেখে দাও তো
আমার জামাই চিতল মুইঠা খেতে ভালোবাসে
শাশুড়ি ছিল না বলে চিতল মুইঠা খাইনি কখনও
তবু বলি, চিতল এরকমই হয়, তেমন টাটকা তো পাবেন না
জামাইষষ্ঠীর বাজারে এসে আজ মনে হচ্ছে পুরো জগতটাই
শাশুড়িময়, শুধু আমার ভাগ্যেই শাশুড়ি জুটলো না
জানতে পারলুম না জামাইষষ্ঠীতে জামাইদের ভূমিকা কি
শাশুড়িরা সেদিন জামাইদের নিজের মেয়ের চেয়ে বেশি আদর করেন নাকি
কেমনভাবে কি-কি করেন ধুতি-পাঞ্জাবিতে হিরো জামাইকে নিয়ে
আমার শাশুড়ি থাকলে আমি তাঁকে প্রণাম করবার জন্য
ঠোঁটে একটা চুমু খেতুম
উনি আমায় জড়িয়ে ধরে সকলের সামনে আদর করতেন
আমি ওনাকে সালমান খানের ফিল্ম দেখাতে নিয়ে যেতুম
ম্যাকডোনাল্ড কে এফ সি ডোমিনোজ পিৎজায় নিয়ে যেতুম
ব্ল্যাক ফরেস্ট আইসক্রিম খাওয়াতুম
সারা বাঁশদ্রোণী বাজার আজ ছেয়ে গেছে শাশুড়িতে
এনাদের অনেকের ঠোঁটেই চুমু খাওয়া যায়
ভিড়ের ভেতরে আমি জামাইহীন শাশুড়ির খোঁজ করি
শেষে পেয়ে যাই একজনকে, উনি বলেন, ওনার ভাগ্য বড়ো খারাপ
মেয়েও হয়নি আর ছেলেও হয়নি, আর দ্যাখো, শাশুড়িগুলোর ঢঙ
আমি বলি, চলুন, তাহলে বাজার করে দিচ্ছি
আমারও শশুর নেই, শাশুড়িও নেই
কিন্তু আপনার ঠোঁটদুটো খুবই সুন্দর, এই বয়সেও মেইনটেন করেছেন
উনি বলেন, না করলে আর পথজামাইদের ধরব কেমন করে !

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৬

কৃতি ঘোষ-এর জন্য প্রেমের কবিতা

এই সেই গালফোলা যুবতী
যাকে ওর বাবা ডাকে ডাবলিউ
রোদের সঙ্গে ষড় করে যে
আমার ছায়াকে ভাঙেচোরে সে
সিগ্রেট ফোঁকে বলে চুমু ওর
খাওয়া এক বাসি কার্ড এটিএম
পিন ওর দুই চোখে মিচকায় 
ইস্তিরি-করা মোর ভজনা
আমি ছিনু সতেরোশো শতকে
ও রয়েছে বাইশের কোঠাতে
যা নিয়েছি তা ফেরত দেয়া যাবে না
 উকুনের সাথে চুলে পুষেছি
মৎস্যবালিকা যার বুকে আঁশ
ও আমার পিন আপ পোস্টার
নদী ওর ঘাম ছাড়া বয় না
প্রেমিকেরা কারাগারে বন্ধ
ফোলাগাল ছুঁই ফেসবুকে রোজ
চুমু খাই সিগ্রেটি ঠোঁটে ওর
আমার কান দুটো কুমিরের
গিটার বাজিয়ে ডাকে আয় আয়
ও আমাব নিলামেতে কিনেছে
আক টাকা পঁয়ত্রিশ পয়সায়
চেন বেঁধে পথেঘাটে নিয়ে ঘোরে
তবু বলে তুতুতুতু আয় আয়

রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৪

অবন্তিকা, তোর ওই মহেঞ্জোদারোর লিপি উদ্ধার

কী গণিত কী গণিত মাথা ঝাঁঝা করে তোকে দেখে
ঝুঁকে আছিস টেবিলের ওপরে আলফা গামা পাই ফাই
কস থিটা জেড মাইনাস এক্স ইনটু আর কিছু নাই
অনন্তে রয়েছে বটে ধূমকেতুর জলে তোর আলোময় মুখ
প্রতিবিম্ব ঠিকরে এসে ঝরে যাচ্ছে রকেটের ফুলঝুরি জ্বেলে
কী জ্যামিতি কী জ্যামিতি ওরে ওরে ইউক্লিডিনি কবি
নিঃশ্বাসের ভাপ দিয়ে লিখছিস মঙ্গল থেকে অমঙ্গল
মোটেই আলাদা নয় কী রে বাবা ত্রিকোণমিতির জটিলতা
মারো গুলি প্রেম-ফেম, নাঃ, ফেমকে গুলি নয়, ওটার জন্যই
ঘামের ফসফরাস ওড়াচ্ছিস ব্রহ্মাণ্ড নিখিলে গুণ ভাগ যোগ
আর নিশ্ছিদ্র বিয়োগে প্রবলেম বলে কিছু নেই সবই সমাধান
জাস্ট তুমি পিক আপ করে নাও কোন প্রবলেমটাকে
সবচেয়ে কঠিন আর সমস্যাতীত বলে মনে হয়, ব্যাস
ঝুঁকে পড়ো খোলা চুল লিপ্সটিকহীন হাসি কপালেতে ভাঁজ
গ্যাজেটের গর্ভ চিরে তুলে নিবি হরপ্পা-সিলের সেই বার্তাখানা
হাজার বছর আগে তোর সে-পুরুষ প্রেমপত্র লিখে রেখে গেছে
মহেঞ্জোদারোর লিপি দিয়ে; এখন উদ্ধার তোকে করতে হবেই
অবন্তিকা, পড় পড়, পড়ে বল ঠিক কী লিখেছিলুম তোকে--
অমরত্ব অমরত্ব ! অবন্তিকা, বাদবাকি সবকিছু ভুলে গিয়ে
আমার চিঠির বার্তা তাড়াতাড়ি উদ্ধার করে তুই আমাকে জানাস

শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৪

সোনাগাছিতে বৃষ্টি

পাকানো সিঁড়ির শেষে, তিন তলার বাঁকে, বলল পিসতুতো দাদা
"এই হল সোনাগাছি, শহরের রানি, ফি-রাত্তিরে পাঁচ লিটার
খোকাখুকু জমা হয় এ-পাড়ায়, ভেবে দ্যাখ, মৌজমস্তিতে নষ্ট
কত-শত মহান পুরুষ-নারী, জন্মাবার আগেই খাল্লাস ;
ওই যে গুটকাঠোঁট মাসি, ওকে বললেই, যাকে চাই নিস--
এখন তো চুলখোলা মেয়েদের নধর দুপুর, সকলেই ফাঁকা,
হাফরেটে সুন্দরীতমাকে পেয়ে যাবি ; কাজ আছে, আমি চললুম ।"

'ঘরে নয়, বিছানায় নয়, চলো না কালবৈশাখিতে ভিজে
প্রেমিকার অভাব মেটাই', বলি কালো মেয়েটিকে ।

চুড়িদার শ্যামলিমা আর আমি কোমর জড়িয়ে
আহিরিটোলার ঘাটে ঝোড়োজল গঙ্গায় নামি--
ও হয় ফোলানো পালের নৌকো, চিৎসাঁতার দোল খায়
আমি হই লগিঠেলা ভাটিয়াল মাঝি ।

"আবার এসো কিন্তু, অ্যাঁ, প্রেমিকা ভেবেই চলে এসো
যেদিন পড়বে বৃষ্টি, ভেতরে তো ভিজছি না
বাইরের ভেজবার রোগটুকু দিয়ে চলে যেও ।"

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৩

ব্লাড লিরিক

অবন্তিকা, তোর খোঁজে মাঝরাতে বাড়ি সার্চ হল
এর মতো ওর মতো তার মতো কারো মতো নয়
যেন এমন যেন অমন যেন তেমন নয়

কী করেছি কবিতার জন্য আগ্নেয়গিরিতে নেমে !
এ কি, এ কি, কী বেরোচ্ছে বাড়ি সার্চ করে
কবিতায় ? বাবার কাচের আলমারি ভেঙে ব্রোমাইড সেপিয়া খুকিরা
কবিতায় । হাতুড়ির বাড়ি মেরে মায়ের তোরঙ্গে ছিঁড়ে বিয়ের সুগন্ধী                                                                                                    বেনারসী
কবিতায় । সিজার লিস্টে শ্বাস নথি করা আছে
কবিতায় । কী বেরোলো ? কী বেরোলো ? দেখান দেখান
কবিতায় । ছি ছি ছি ছি, যুবতীর আধচাটা যুবা ! মরো তুমি মরো
কবিতায় । সমুদ্রের নীলগোছা ঢেউ চিরে হাড়মাস চেবাচ্ছে হাঙর কবিতায় । পাকানো ক্ষুদ্রান্ত্র খুলে এবি নেগেটিভ সূর্য
কবিতায় । অস্হিরতা ধরে-রাখা পদচিহ্ণে দমবন্ধ গতি
কবিতায় । লকআপে পেচ্ছাপে ভাসছে কচি বেশ্যা-দেখা আলো
কবিতায় । বোলতার কাঁটাপায়ে সরিষা ফুলের বীর্যরেণু
কবিতায় । নুনে সাদা ফাটা মাঠে মেটেল ল্যাঙোটে ভুখা চাষি
কবিতায় । লাশভূক শকুনের পচারক্ত কিংখাব গলার পালকে
কবিতায় । কুঁদুলে গুমোট  ভিড়ে চটা-ওঠা ভ্যাপসা শতক
কবিতায় । হাড়িকাঠে ধী-সত্তার কালো-কালো মড়া চিৎকার
কবিতায় । মরো তুমি মরো তুমি মরো তুমি মরলে না কেন
কবিতায় । মুখে আগুন মুখে আগুন মুখে আগুন হোক
কবিতায় । মরো তুমি মরো তুমি মরো তুমি মরো তুমি মরো
কবিতায় । এর মতো ওর মতো তার মতো কারো মতো নয়
কবিতায় । যেন এমন যেন অমন যেন তেমন নয়
কবিতায়, অবন্তিকা, তোর খোঁজে সার্চ হল, তোকে নিয়ে কই গেল না                                                                                                       তো !

সোমবার, ২৩ জুলাই, ২০১২

আলফা ফিমেল বিড়ালিনী

ক্যাটওয়াকে শোস্টপার, শব্দহীন আলতো স্টিলেটো ফেলে দেহের আলোয়
মেলে ধরছিস তুই বাঁকের বদলগুলো হাসির হদিস তুলে, ঠিক যেন
ইমলিতলার তিন তলা থেকে বারবার ভাসাচ্ছিস দু'থাবার
তুলোট ম্যাজিক, অবন্তিকা, আলফা ফিমেল বিড়ালিনী, কোলে নিয়ে
আদর করিস যাকে তারই চরিত্র তোকে চেপে ধরে কালো শাদা বাদামি ধূসর
নক্ষত্র ক্লোনিং চোখে অর্গলছেঁড়া তোর লিভ-ইন কোনো পৌরাণিক
ঋষির রেশমি ঠোঁটে দরোজাবর্জিত কিছু অ্যাগ্রেসিভ আঁচড়-কামড়
তুই কি নীলাভ দূরত্বে থাকা অরুন্ধতী ? নাকি তুই
হবির্ভূ সন্নতি কলা অনসূয়া ক্ষমা শ্রদ্ধার কোঁকড়া ঘনান্ধকারে
দু'পাশে দর্শক নিয়ে ক্যাটওয়াকে হাঁটছিস দেশ-কালহীন ?
তাই তোকে বর্ণসংকর করা কতই সহজ দ্যাখ, আদুরে অ-নাস্তিক
নিজেই নিজেকে চেটে অহরহ স্পিক অ্যান্ড স্প্যান থাকবার
যৌনতার নরম মডেল তোর আদি-মা বা পূর্বপুরুষ ছিল কিনা
কেউই জানে না দেখতে কীরকম গায়ের আদল কন্ঠস্বর
শ্বাসে তোর পাখির উড়াল-গান ইঁদুরের মৃত্যুমুখী খেলা মাছেদের ঘাই
অবন্তিকা, অধুনান্তিকা, তোকে সীমা দিয়ে বেঁধে ফেলা অসম্ভব !
কোন পুরুষ ? কোন পুরুষ ? কোন পুরুষ ? কোন পুরুষ ?
তৈমুর আত্তিলা-হুন ক্যালিগুলা পল-পট রোবেসপিয়ার ? নাহ--
তোর প্রেম অনির্ণেয় তবু তুই ক্যাটওয়াকে গ্রীবা তুলে আমাকে খুঁজিস...

শনিবার, ৫ মে, ২০১২

কপিরাইট

অবন্তিকা, অতি-নারী, অধুনান্তিকা
পঞ্চান্ন বছর আগে চৈত্রের কোনারকে
লোডশেডিঙের রাতে হোটেলের ছাদে
ঠোঁটের ওপরে ঠোঁট রেখে বলেছিলি
চুমু প্রিন্ট করে দিচ্ছি সারা নোনা গায়ে
ম্যাজেন্টা গোলাপি ভিজে লিপ্সটিকে
গুনে গুনে একশোটা, লিমিটেড এডিশান
কপিরাইট উল্লঙ্ঘন করলে চলবে না ।

অবন্তিকা, সাংবাদিকা, অধুনান্তিকা
এ-চুক্তি উভয়েরই ক্ষেত্রে লাগু ছিল
কিন্তু দু'জনেই এর-তার কাছ থেকে
শুনেছি কখন কবে কার সাথে শুয়ে
ভেঙেছি ভঙ্গুর চুক্তি কেননা মজাটা
ঠোঁটের ফাইনপ্রিন্টে লিখেছিলি তুই । 

আলফা পুরুষের কবিতা

কী দিয়ে তৈরি তুই ? নারীকে কবিতায়
আনা যাবেনাকো বলে তোর হুমকি,
অবন্তিকা ! কোন ঋতু দিয়ে গড়া ? স্কচ
না সিংগল মল্ট ? নাকি তুই হোমিওপ্যাথির
শিশি থেকে উবে যাওয়া ৩৫ হাজার ফিট
ওপরে আকাশে, প্লেনের হোল্ডে রাখা শীতে
নদীর মোচড়ানো বাঁকে ইলিশের ঝাঁক ?
আলোকে দেশলাই বলে ভাবলি কীভাবে ?
কেন ? কেন ? কেন ? কেন ?  অ্যাঁ, অবু , 
অবন্তিকা ? ভুলে গেলি তোরই ছোঁয়া পেয়ে
আড়মোড়া ভেঙেছিল চকমকি পুরুষ-পাথর !
বল তুই, বলে ফ্যাল, মিটিয়ে নে মিঠে ঝাল
জমা করে রেখেছিস স্কচ-খাওয়া জিভে ;
তোরই বাড়িকে ঘিরে তুষারের তীব্র আলো
সূর্য ওঠেনি আজ পনেরো দিনের বেশি
তবু তোর মুখশ্রী শীতে আলোকিত কেন ?
আসলে অন্যের ওপরে রাগ, উপলক্ষ আমি
হ্যাঁ, হ্যাঁ, খুলে বল, দাঁতে দাঁত দিয়ে বল
যে ভাবে ইচ্ছে তোর উগরে দে স্টক তোর...


তোকে নিয়ে লিখতে পারব না এ-নিষেধ
অমান্য করেই তবে পাতছি চোরা শব্দফাঁদ
অবন্তিকা মুখপুড়ি খুকিবাদী হে প্রেমিকা
এই নে মাটির পোড়ানো আংটি হাঁটু গেড়ে
দিচ্ছি তোর ক্রুদ্ধ আঙুলে, নিবি বা ফেলে দিবি
তা তোর অ্যাড্রেনালিন বুঝবে অবন্তিকা
আমি তো নাচার যতক্ষণ না যাচ্ছিস
মগজের ছাইগাদা-বিস্মৃতির উড়ো আবডালে...