মলয় রায়চৌধুরী

মলয় রায়চৌধুরী

বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০

বিষাদ

 

“বিষাদ”

ঠিক কীভাবে যে বিষাদ প্রকাশ করব ভেবে পাচ্ছি না

বিষাদে ভুগছি, বুঝতে পারছি না অন্ত্যমিল দেবো নাকি

মাত্রা গুনে-গুনে লিখতে লিখতে বিষাদকে আনবো ডেকে

পয়ার হলে ভালো হতো বিনয়ের অতিপ্রিয় মিষ্টি পয়ার

তা কি বিষাদে চলবে ? অক্ষরবৃত্ত নাকি মাত্রাবৃত্ত, কোনটা

বিষাদে খাপ খায় ? তার চেয়ে বিষাদকে পুষে রাখি, কেউ

কবিতা চাইলে, রবীন্দ্রনাথের আলখাল্লা পরিয়ে দিয়ে দেবো !

রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০

ভালোবাসো

 

ভালোবাসো

ভালোবাসো ভালোবাসো ভালোবাসো

আমাকে গভীরভাবে ভালোবাসো

আরও আরও বেশি ভালোবাসো

ভালোবাসো ভালোবাসো ভালোবাসো

কিন্তু স্পর্শ কোরো না কখনও কোনোদিন

স্পর্শ করলেই ভালোবাসা সংসারের আবর্তে পড়ে যাবে

স্পর্শ করলেই প্রেম ফাঁসির রশি হয়ে যাবে

তাই শুধু ভালোবাসো গভীরভাবে ভালোবাসো


 

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

তুমি, নীলাকাশ, ধরাছোঁয়া থেকে বহুদূর

 


তোমার শাদা-কালো ফোটোগ্রাফ, টের পাবার আগে, মন্দার পাহাড়ে

লুকিয়ে খাচ্ছিলুম, আঃ, আটকে গেল কন্ঠনভোচরে, নীল বিষ হয়ে ;

আমার দুই পা ধরে অসুরেরা আর দুই হাত ধরে দেবতারা, কালসাপ ভেবে

মন্হন করতে লাগলো অমৃতের লোভে ; জানতো না ওরা, তুমি আছো

আমার কন্ঠস্বরে অক্ষরে অভিধা ব্যকরণে  নীলকূট হয়ে প্রিয়তমা

তুমি তো নীলাকাশ তুমি তো ধরাছোঁয়া থেকে বহুদূর কবিতামানুষী

শাশ্বত চাউনিতে,  অসহ্য যন্ত্রণায় ক্ষুধার্তের গ্রাসনালিকায়, আঃ,

দেখেছো তো দু’পক্ষই আতঙ্কিত এমনকী মূর্ছিত আমার মারণঘূর্ণনে, 

তোমার শাদা-কালো ফোটোগ্রাফ, অষ্টাদশী, চুরি করে খেয়েছি যে--

পুরোটা ব্রহ্মাণ্ড, তীর্যক তাকিয়ে আছো, উদ্গীরণ নিতে ঠোঁট খোলো

আমার হাঁ-মুখে জিভ রেখে দ্যাখো সিংহাসনে  তুমি বিশ্বরূপা

স্বাদ নাও বিষরসে ভেজা অক্ষর শব্দশ্বাস ব্যকরণ পিচ্ছিল আলো, আঃ

কন্ঠনালিতে তুমি শাদা-কালো ফোটোগ্রাফ  আটক থাকবে চিরকাল


শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ম্লেচ্ছকুমারীকে

ম্লেচ্ছকুমারীকে 
এ নাও অস্তিত্ব দিচ্ছি দাবি অনুযায়ী
হিব্রু শাস্ত্র মতে চামড়া ছাড়িয়ে টাইগ্রিসের জলে ধুয়ে নেয়া
উলটো টাঙানো আমি ঝুলছি স্টেনলেস হুকে
করোটি ফাটিয়ে মন নিয়ে নাও
হৃদযন্ত্র থেকে ভালভ উপড়ে হৃদয়ও নাও
জিভ ছিঁড়ে নিয়ে নাও প্রেমের কথাগুলো যা বলেছি এতোকাল
লিঙ্গ কেটে নিয়ে নাও প্রেমের কোটি-কোটি কীট
এ আমার শব নয় ; এ হলো পার্থিব প্রস্তাব
 

রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০

আপনি তো নিজেই কথা রাখেননি


কেনই বা রাখবে অন্য লোকে কথা ? যখন আপনি নিজেই
দেয়া কথা রাখতে লজ্জাও পান না ? ভুলে গেলেন নাকি ?
তাহলে মনে করিয়ে দিই । ‘কৃত্তিবাস’ পত্রিকার পঞ্চদশ সংকলনে
লিখেছিলেন : “পুরস্কার পায় কারা ? যারা তথাকথিত 
জীবনে নিরুদ্বেগ ; যাদের অর্থসম্পদ আর প্রতিভা যথাক্রমে
প্রচুর আছে আর সামান্যতম নেই । এবং যাদের হাত
সবসময়েই অপরের পদধূলি নিয়ে-নিয়ে নোংরা হয়ে থাকে ।
পুরস্কার একমাত্র নেওয়া সম্ভব ঈশ্বর অথবা শয়তানের 
হাত থেকে ।”
কী দাঁড়ালো ব্যাপারটা তাহলে ? নিজেই ঈশ্বর আর শয়তানের
ডবল ভূমিকায় নেমে বিলোলেন নোংরা পদধূলি । কাদের বলুন তো ?
সেই সব কাকতাড়ুয়া লোকেদের যারা বউয়ের বিছানায়
কচিখুকিদের ফুসলিয়ে দুপুরে আমোদরস ফ্যালে !
আর আপনার মোহাসেবদল ? ল্যাংপেঙে পৌরকর্মী 
উঠতে-বসতে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার বাকতাল্লা ঝেড়ে ঢুকে গেল
‘আজকাল’ পত্রিকায়, তারপর বুদ্ধ ভটচাজের ল্যাঙবোট --
পুরস্কার পাবার ধান্ধায় । অন্যজন তিন বছর প্রেমিকাকে
আশ্বাস দিয়ে দায়িত্ব পাবার ভয়ে পালালো কলকাতা, আর, হ্যাঁ,
চাকরিসহ পুরস্কারও পেলো । 
বুড়ো হয়ে বুঝতে পারি শয়তান বা ঈশ্বর বলে কিছু নেই।
সবই আপনার মতো লোকেদের তামাশা-বাজানো ডুগডুগি
যারা নিজেরা কথা রাখতে ভুলে গিয়ে অন্যদের দোষ খুঁজে পায় ।