মলয় রায়চৌধুরী

মলয় রায়চৌধুরী

রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

নরম


হে নরম তুমি চরম কঠিন কঠিনতম
হে নরম জীব-জগতের কী এক বিস্ময়
বিচলিত ঠোঁট খুলতে  উৎসাহ কেন দাও
মুঠোর আঙুলও মেলে ধরো হে নরম তুমি 
দেহ থেকে আচমকাই মেঝেতে ফেলে দাও
নরম মেলে ধরবে বলে হে নরম তুমি
চরম কঠিন কঠিনতম তুমি তবুও নরম

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

যোনি

যোনি
হে অলুক বহুব্রীহি জিভ, তুমি হৃদয় পর্যন্ত যাও
প্রতিটি স্বাদকণা গোলাপি মাংসে নিয়ে তাকে বলো
এই তিক্ত, এই কষায় এই মিষ্টি এই নুন এই মন্ত্রবীজ
রেখে যাচ্ছি মহাসরোবরে প্রোষিত-বার্তাবাহকের
নির্বাক সংলাপে, এই জিভ উৎসর্গ করলুম গহ্বরে
তুমি স্পন্দ তুমি নীড় তুমি কর্মলক্ষ্মী-অবতার
এই নাও এই নাও এই নাও সর্বস্ব এই নাও নাও এই

বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

হে স্ফূর্তিনাথ


মগজে-হৃৎপিণ্ডে যতি কমা কোলোন সেমিকোলোন
জন্মসূত্রে পাওয়া, ঙ চন্দ্রবিন্দু অনুস্বার বিসর্গ
জড়ো করে রাখা আছে । কে জানে কখন কার নির্দেশে
রক্তের স্রোতে মিশে গিয়ে ওদের কোনো একজন
বাটারফ্লাই সাঁতার কাটতে থাকে স্ফূর্তির মজায়--
খেয়ালই করে না আমি চিৎ বা উপুড় হয়ে নাক বা
পেচ্ছাপের সঙ্গে রক্ত বের করে উলটে পড়ে আছি
জ্ঞানহীন হয়ে । হে স্ফূর্তিনাথ, তুমি শ্বাসের মারপ্যাঁচ
রক্তের স্রোতে রঙিন মাছের মতো কেন ছেড়ে দাও?

আমার অন্তর্জলী যাত্রায় কুমারী অবন্তিকা


( র ), যিনি ছিলেন স্বৈরাচারী একনায়ক
       সোভিয়েত দেশের ( স ) ডিকটেটরের চেয়েও কড়া ডোজের
চিনের ( ম ) ডিকটেটরের চেয়েও মনমৌজি বউদিপাগল
পলপটের চেয়েও পল পল দিলকে পাস
              তাঁর আগের কতোগুলো ( ক ) দের হাপিশ করে দিলেন
তার হিসেব পাওয়া গেল
( ব-১ ),  ( ব-২ ), ( স-১ ), ( অ ) দের তেলংদেহি থোড়া থোড়া
      কিন্তু এনারা কেউই যোনি কেমন জানতেন কি না তা লিখে যাননি
তা লেখার জন্য এলেন আরেক স্বৈরাচারী একনায়ক ( জ )
       ইনি মাঝাসাজে লাবণ্যময়ী যোনি দেখেছিলেন
আর ডিকটেটরশিপ ভরিয়ে দিলেন যোনিতে
              তাঁকে সিংহাসন থেকে ঠেলে ফেলতে ( র ) গান গাইতে গাইতে
উদয় হন
ওরে, তোরা   নেই বা কথা বললি,
     দাঁড়িয়ে হাটের মধ্যিখানে নেই জাগালি পল্লী
মরিস মিথ্যে ব'কে ঝ'কে,   দেখে কেবল হাসে লোকে
     নাহয়   নিয়ে আপন মনের আগুন মনে মনেই জ্বললি
অন্তরে তোর আছে কী যে   নেই রটালি নিজে নিজে
     নাহয়   বাদ্যগুলো বন্ধ রেখে চুপেচাপেই চললি
কাজ থাকে তো কর্‌ গে না কাজ,   লাজ থাকে তো ঘুচা গে লাজ,
     ওরে,   কে যে তোরে কী বলেছে নেই বা তাতে টললি

ডিকটেটর ( জ ) কখনও গান গাইতেন না
               কেননা অন্যের দুঃস্বপ্ন কেড়ে নিজেই দেখতেন
              হুঁ হুঁ বাওয়া আমি কিন্তু কাড়তে দিইনি
নিজের দুঃস্বপ্ন নিজের স্টকেই রেখেছি
কখনও সখনও বের করে দেখে নিই
             আমার আগে কেউ শেকড়ের খিদে আবিষ্কার করতে পারেনি
কেড়ে নেয়া দুঃস্বপ্নের পেছনে দৌড়োতে দেখা গেল ( স-২ ), ( শ-১ ), ( শ-২ )
           ( উ ), ( স-৩ ), ( শ-৩) আরও অনেকে
জন্মের সময়ে তাঁদের দুর্গা টুনটুনি মধু খাবার জিভ বের করেনি
ডিকটেটর ( জ ) কে যতো নামাতে চেষ্টা করেন
            ততো বাড়ে বিষাদবায়ু, অবক্ষয়বায়ু, শোষণবায়ু
কিন্তু যোনির আর দেখা মিলল বটে তবে তা
যেতে যেতে চুপি চুপি
তাহাদের শ্রেণী যোনি ঋণ রক্ত রিরংসা ও ফাঁকি
উঁচু-নিচু নরনারী নিক্তিনিরপেক্ষ হ’য়ে আজ
মানবের সমাজের মতন একাকী
তাই অক্ষতযোনি নিয়ে আমার অন্তর্জলীযাত্রায় নাচছে অবন্তিকা
           ক্রিমেটোরিয়ামে শুয়েও টের পাচ্ছি ঘাড় থেকে ডিকটেটর ( জ )কে
নামাতে পারলেও ডিকটেটর ( র ) নিজের লাশের ভেতর থেকে
                      বেরিয়ে আসছেন দেখার জন্য
                 এই ব্যাটা মামুলি নগরভোটার আমি
                              আধারকার্ডিওলজিস্ট আমি
আমি সত্যিই মরে গেছি কিনা
             আসলে অবন্তিকা যতোদিন শ্মশানে নাচবে ততোদিন
অন্তর্জলীযাত্রায় থাকবো
                  কেননা অবন্তিকা বলেছে
এখানে গঙ্গাজল পাওয়া যায় না
                কেবল ডিলডো পাওয়া যায়
যা ডিকটেটর ( র ) আর ডিকটেটর ( জ ) দু্জনের কেউই জানতেন না

বৃত্ত-নৃত্য


করোনা ভাইরাস পুং তুমি তো নিজেই
মৃত্যু-নিরপেক্ষ ছিলে
এবার সঙ্গে করে নিয়ে এলে
একচক্ষু উলঙ্গ প্রেমিকাকে
যে তার এলোচুল উড়িয়ে বৃত্ত-নৃত্যে
গোড়ালি ঘুরিয়ে তুলল
সমুদ্র-মেশানো নোনা ছুটন্ত উচ্ছ্বাস
বজ্র-ডমরুর আতঙ্কধ্বনি : ওঁ স্বাহা--
তোমাদের সন্ত্রাসে সবকিছু নিরপেক্ষ
এমনকী ধর্ম, জাতি, দেশ, গাঁ ও শহর,
সাধু আর চোর, জানোয়ার, সুন্দরী গাছেরা ।
.
মানুষের বিরুদ্ধে বদলা নিতে
প্রকৃতি তোমাদের পাঠিয়েছে উচিত শিক্ষা দিতে--
কিন্তু মানবসমাজ কোনোদিন কি বদলাবে ?

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

লকডাউনে দেবী-দেবতারা

“লকডাউনে দেবী-দেবতারা”

ওনারা দেয়ালে, রান্নাঘরের তাকে, ওপরে চৌকাঠে
যেমনটি আমার স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের বউ নিজেদের
পছন্দের চাকরি পাবার, পাশ করবার, বিদেশে যাবার
আরাধ্য ও আরাধ্যাকে রেখেছিল কয়েক দশক আগে
তেমনই আছেন কিন্তু লকডাউনের জেরে ধুলোয় এমন
ঢাকা যে বোঝার উপায় নেই তিনি কোন দেবী বা দেবতা--
বুড়ি স্ত্রী তো খাটতে পারছে না রান্নাবান্নার পর । আমি
ফুলঝাড়ু দিয়ে ওনাদের ধুলোর মাস্ক খোলর প্রয়াস
করেছি একদিন, তবে পাইনি অনুমতি নাস্তিক বলে ;
ছেলে ও ছেলের বউ জেনে গেলে কেলেঙ্কারি হবে । যদিও
খুদে মাকড়সাগুলো ওদের থুতু দিয়ে তৈরি করে দিয়েছে
অক্সিজেনের নল যাতে করোনায় ফুসফুস নষ্ট না হয়।
তবুও তেলচিটে পড়ে বোঝার উপায় নেই কোনজন
বুড়ির, কেই বা ছেলের আর ছেলের বউয়ের শুকনো
মালা পরে লকডাউন কাটাচ্ছেন একা-একা । কাজের
মেয়েটি কবে ফিরবেন আর মুক্ত করবেন ওনাদের
তা হায় মাস্ক-পরা দেবী-দেবতারা বলতে অপারগ ।

সোমবার, ১৮ মে, ২০২০

কামাবশায়িতা



উৎসর্গ : কৌশিক সরকার
তুমি তো ভার্জিন ! তাহলে কেমন করে যোনি আঁকো ?
দেখেছ কি কখনও কারো যোনি কিংবা অনেকের যোনি
যেমন ভেরলেন দেখতো প্রতিদিন বিভিন্ন নারীর, প্যারিসের
লাতিন কোয়ার্টারে ? ভারতীয় শিল্পীরা এক খেপ ফ্রান্সে যাবেই
যোনি দেখবার লোভে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নারীদের যোনি
কৃষ্ণাঙ্গীর দ্যুতিময় যোনি, শ্বেতাঙ্গিনীর আলোকসম্পাতি যোনি
খুঁজবে মমার্ত বা শঁজেলিজের গভীর রাতের গ্যাঞ্জামে, আর
লুভরেতে যোনির রকমফের দেখে ফিরবে স্বদেশে, সেই সব
যোনি এঁকে ঝুনঝুনওয়ালাদের বিক্রি করবে বলে, যারা যোনি
দেখবার সুযোগই পায় না এতো ব্যস্ত তিজোরির বাণ্ডিল নিয়ে--
প্রেম তুমি করেছিলে বটে কিন্তু যোনিটি পাবার প্রলোভনে
সেই যে প্রত্যাখাত হলে রোজ রাতে আঁকছো বসে জগতের
সমস্তরকম , চেষ্টা করে যাচ্ছো নারীবাদী যোনি আঁকবার !