মলয় রায়চৌধুরী

মলয় রায়চৌধুরী

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৩

ব্লাড লিরিক

অবন্তিকা, তোর খোঁজে মাঝরাতে বাড়ি সার্চ হল
এর মতো ওর মতো তার মতো কারো মতো নয়
যেন এমন যেন অমন যেন তেমন নয়

কী করেছি কবিতার জন্য আগ্নেয়গিরিতে নেমে !
এ কি, এ কি, কী বেরোচ্ছে বাড়ি সার্চ করে
কবিতায় ? বাবার কাচের আলমারি ভেঙে ব্রোমাইড সেপিয়া খুকিরা
কবিতায় । হাতুড়ির বাড়ি মেরে মায়ের তোরঙ্গে ছিঁড়ে বিয়ের সুগন্ধী                                                                                                    বেনারসী
কবিতায় । সিজার লিস্টে শ্বাস নথি করা আছে
কবিতায় । কী বেরোলো ? কী বেরোলো ? দেখান দেখান
কবিতায় । ছি ছি ছি ছি, যুবতীর আধচাটা যুবা ! মরো তুমি মরো
কবিতায় । সমুদ্রের নীলগোছা ঢেউ চিরে হাড়মাস চেবাচ্ছে হাঙর কবিতায় । পাকানো ক্ষুদ্রান্ত্র খুলে এবি নেগেটিভ সূর্য
কবিতায় । অস্হিরতা ধরে-রাখা পদচিহ্ণে দমবন্ধ গতি
কবিতায় । লকআপে পেচ্ছাপে ভাসছে কচি বেশ্যা-দেখা আলো
কবিতায় । বোলতার কাঁটাপায়ে সরিষা ফুলের বীর্যরেণু
কবিতায় । নুনে সাদা ফাটা মাঠে মেটেল ল্যাঙোটে ভুখা চাষি
কবিতায় । লাশভূক শকুনের পচারক্ত কিংখাব গলার পালকে
কবিতায় । কুঁদুলে গুমোট  ভিড়ে চটা-ওঠা ভ্যাপসা শতক
কবিতায় । হাড়িকাঠে ধী-সত্তার কালো-কালো মড়া চিৎকার
কবিতায় । মরো তুমি মরো তুমি মরো তুমি মরলে না কেন
কবিতায় । মুখে আগুন মুখে আগুন মুখে আগুন হোক
কবিতায় । মরো তুমি মরো তুমি মরো তুমি মরো তুমি মরো
কবিতায় । এর মতো ওর মতো তার মতো কারো মতো নয়
কবিতায় । যেন এমন যেন অমন যেন তেমন নয়
কবিতায়, অবন্তিকা, তোর খোঁজে সার্চ হল, তোকে নিয়ে কই গেল না                                                                                                       তো !

৩৬০

দেবারতিদি বিয়ে করলেন মণীন্দ্রদাকে
উত্তররৈবিক বাঙালির কবিতায়
সেই প্রথম ভাইবোনের বিয়ে

টেকো বিদ্বানরা বললেন, এসব হবে
জানতুম জানতুম জানতুম

খোঁপা বিদুষীরা বললেন
এম মা এবার কী হবে

হা-হা, কেউই জানত না, একটা সরলরেখা
এক থেকে আরেক বিন্দুতে নয়
৩৬০ রকমের জায়গায় যায়

কাটা আঙুলের মালা গলায় আমি
আঙুলপ্রমাণ বলে যে সুবিধায় রাক্ষসরা ভোগে
কনের আর বরের কবিতার হলুদ মেখে
চোখ মেরে ঘুচিয়ে দিলুম দিন-রাতের ফারাক

ওহ হো, বলা হয়নি, সে-আপ্যায়ণ দ্যাখে কে !

মধ্যবিত্ত কবি

আধুনিকতাবাদী কবিটি
বিষাদে ভুগতে হবে বলে ধুঁকছেন
মহানগরের ঘেয়ো কুকুরের মাছি
পুঁজ চেটে উড়ছেন
বিস্বাদ বিস্বাদ
অতিশয়োক্তি নোংরা বোবাও পারে
খণ্ডবাদীর ক্লিন্ন স্মারক জীবটি
ভনভন ভনভন

সোমবার, ২৩ জুলাই, ২০১২

আলফা ফিমেল বিড়ালিনী

ক্যাটওয়াকে শোস্টপার, শব্দহীন আলতো স্টিলেটো ফেলে দেহের আলোয়
মেলে ধরছিস তুই বাঁকের বদলগুলো হাসির হদিস তুলে, ঠিক যেন
ইমলিতলার তিন তলা থেকে বারবার ভাসাচ্ছিস দু'থাবার
তুলোট ম্যাজিক, অবন্তিকা, আলফা ফিমেল বিড়ালিনী, কোলে নিয়ে
আদর করিস যাকে তারই চরিত্র তোকে চেপে ধরে কালো শাদা বাদামি ধূসর
নক্ষত্র ক্লোনিং চোখে অর্গলছেঁড়া তোর লিভ-ইন কোনো পৌরাণিক
ঋষির রেশমি ঠোঁটে দরোজাবর্জিত কিছু অ্যাগ্রেসিভ আঁচড়-কামড়
তুই কি নীলাভ দূরত্বে থাকা অরুন্ধতী ? নাকি তুই
হবির্ভূ সন্নতি কলা অনসূয়া ক্ষমা শ্রদ্ধার কোঁকড়া ঘনান্ধকারে
দু'পাশে দর্শক নিয়ে ক্যাটওয়াকে হাঁটছিস দেশ-কালহীন ?
তাই তোকে বর্ণসংকর করা কতই সহজ দ্যাখ, আদুরে অ-নাস্তিক
নিজেই নিজেকে চেটে অহরহ স্পিক অ্যান্ড স্প্যান থাকবার
যৌনতার নরম মডেল তোর আদি-মা বা পূর্বপুরুষ ছিল কিনা
কেউই জানে না দেখতে কীরকম গায়ের আদল কন্ঠস্বর
শ্বাসে তোর পাখির উড়াল-গান ইঁদুরের মৃত্যুমুখী খেলা মাছেদের ঘাই
অবন্তিকা, অধুনান্তিকা, তোকে সীমা দিয়ে বেঁধে ফেলা অসম্ভব !
কোন পুরুষ ? কোন পুরুষ ? কোন পুরুষ ? কোন পুরুষ ?
তৈমুর আত্তিলা-হুন ক্যালিগুলা পল-পট রোবেসপিয়ার ? নাহ--
তোর প্রেম অনির্ণেয় তবু তুই ক্যাটওয়াকে গ্রীবা তুলে আমাকে খুঁজিস...

শনিবার, ১২ মে, ২০১২

চলো গুলফিঘাট

কেউ মরলেই তার শব ঘিরে মৃত্যু উৎসব ছিল ইমলিতলায়
বয়ঃসন্ধির পর দেহের ভেতরে অহরহ উৎসব চলে তাই
তারা মারা গেলে কান্নাকাটি চাপড়ানি নয় বিলাপ কেবল
শিশুদের জন্য করো বাচ্চা-বুতরুর জন্য কাঁদো যত পারো

শবখাটে চারকোণে মাটির ধুনুচি বেঁধে গুলফি ঘাটের শমসানে
ঢোলচি ঢোলকসহ সানাই বাজিয়ে নেচে আর গেয়ে পাড়ার ছোঁড়ারা
কুড়োতুম ছুঁড়ে-ফেলা তামার পয়সা প্যাঁড়া আম লিচু আকন্দের মালা
ফিরে এসে বিকালে রোয়াকে বসে বুড়ো বুড়ি কিশোর যুবক
তাড়ি বা ঠররা আর তার সাথে শুয়োরের পোড়া পিঠ-পেট
খেতে-খেতে ঠহাকা-মাখানো হাসি মাথায় গামছা বেঁধে গান

আমি মরবার পর ছেরাদ্দ বা শোকসভা নয় ; ইমলিতলার ঢঙে
উৎসব করবার কথা ছেলেকে মেয়েকে বলা আছে : মদ-মাংস খাও
স্বজন বান্ধব জ্ঞাতি সবাইকে বলো অংশ নিতে শমসানের পথে
বেহেড হুল্লোড় করে নাচতে গাইতে যেও ফিরো নেচে গেয়ে
মেটালিকা পাঙ্ক-রক হিপ-হপ সুমন শাকিরা ক্যাকটাস
বিটলস এলভিস কিশোর কুমার ও ইয়ুডলিঙে আর ডি বর্মণ...


 

শুক্রবার, ১১ মে, ২০১২

নুন ও নিমকহারামি

তুই তো আমার ঘাম জিভ দিয়ে ছুঁয়ে
বলেছিলি অবন্তিকা, 'আহ কি নোনতা
অন্তরতমের প্রাণ পুরুষালি ঘ্রাণ--'
সেইদিন, লক-আপ থেকে আদালতে
হাতে হাতকড়া আর কোমরে দড়ির
ফাঁসে বাঁধা, হেঁটেছি ডাকাত খুনিদের
সাথে, রাজপথে সার্কাসপ্রেমীর ভিড়...

বিশ্বাসঘাতক যারা, আমার  বিরুদ্ধে
আদালতে রাজসাক্ষী হয়েছিল,  তারা
কাঠগড়া থেকে নেমে বলেছিল, নুন
তো পায়নি, মিষ্টি ছিল আমার ঘামেতে;
তাই বিশ্বাসভঙ্গের প্রশ্ন নেই  কোনো
নিমকহারামি বলা চলবে না তাকে !
                                         

                                                       


শনিবার, ৫ মে, ২০১২

কপিরাইট

অবন্তিকা, অতি-নারী, অধুনান্তিকা
পঞ্চান্ন বছর আগে চৈত্রের কোনারকে
লোডশেডিঙের রাতে হোটেলের ছাদে
ঠোঁটের ওপরে ঠোঁট রেখে বলেছিলি
চুমু প্রিন্ট করে দিচ্ছি সারা নোনা গায়ে
ম্যাজেন্টা গোলাপি ভিজে লিপ্সটিকে
গুনে গুনে একশোটা, লিমিটেড এডিশান
কপিরাইট উল্লঙ্ঘন করলে চলবে না ।

অবন্তিকা, সাংবাদিকা, অধুনান্তিকা
এ-চুক্তি উভয়েরই ক্ষেত্রে লাগু ছিল
কিন্তু দু'জনেই এর-তার কাছ থেকে
শুনেছি কখন কবে কার সাথে শুয়ে
ভেঙেছি ভঙ্গুর চুক্তি কেননা মজাটা
ঠোঁটের ফাইনপ্রিন্টে লিখেছিলি তুই ।