মলয় রায়চৌধুরী

মলয় রায়চৌধুরী

শনিবার, ১২ মে, ২০১২

চলো গুলফিঘাট

কেউ মরলেই তার শব ঘিরে মৃত্যু উৎসব ছিল ইমলিতলায়
বয়ঃসন্ধির পর দেহের ভেতরে অহরহ উৎসব চলে তাই
তারা মারা গেলে কান্নাকাটি চাপড়ানি নয় বিলাপ কেবল
শিশুদের জন্য করো বাচ্চা-বুতরুর জন্য কাঁদো যত পারো

শবখাটে চারকোণে মাটির ধুনুচি বেঁধে গুলফি ঘাটের শমসানে
ঢোলচি ঢোলকসহ সানাই বাজিয়ে নেচে আর গেয়ে পাড়ার ছোঁড়ারা
কুড়োতুম ছুঁড়ে-ফেলা তামার পয়সা প্যাঁড়া আম লিচু আকন্দের মালা
ফিরে এসে বিকালে রোয়াকে বসে বুড়ো বুড়ি কিশোর যুবক
তাড়ি বা ঠররা আর তার সাথে শুয়োরের পোড়া পিঠ-পেট
খেতে-খেতে ঠহাকা-মাখানো হাসি মাথায় গামছা বেঁধে গান

আমি মরবার পর ছেরাদ্দ বা শোকসভা নয় ; ইমলিতলার ঢঙে
উৎসব করবার কথা ছেলেকে মেয়েকে বলা আছে : মদ-মাংস খাও
স্বজন বান্ধব জ্ঞাতি সবাইকে বলো অংশ নিতে শমসানের পথে
বেহেড হুল্লোড় করে নাচতে গাইতে যেও ফিরো নেচে গেয়ে
মেটালিকা পাঙ্ক-রক হিপ-হপ সুমন শাকিরা ক্যাকটাস
বিটলস এলভিস কিশোর কুমার ও ইয়ুডলিঙে আর ডি বর্মণ...


 

শুক্রবার, ১১ মে, ২০১২

নুন ও নিমকহারামি

তুই তো আমার ঘাম জিভ দিয়ে ছুঁয়ে
বলেছিলি অবন্তিকা, 'আহ কি নোনতা
অন্তরতমের প্রাণ পুরুষালি ঘ্রাণ--'
সেইদিন, লক-আপ থেকে আদালতে
হাতে হাতকড়া আর কোমরে দড়ির
ফাঁসে বাঁধা, হেঁটেছি ডাকাত খুনিদের
সাথে, রাজপথে সার্কাসপ্রেমীর ভিড়...

বিশ্বাসঘাতক যারা, আমার  বিরুদ্ধে
আদালতে রাজসাক্ষী হয়েছিল,  তারা
কাঠগড়া থেকে নেমে বলেছিল, নুন
তো পায়নি, মিষ্টি ছিল আমার ঘামেতে;
তাই বিশ্বাসভঙ্গের প্রশ্ন নেই  কোনো
নিমকহারামি বলা চলবে না তাকে !
                                         

                                                       


শনিবার, ৫ মে, ২০১২

কপিরাইট

অবন্তিকা, অতি-নারী, অধুনান্তিকা
পঞ্চান্ন বছর আগে চৈত্রের কোনারকে
লোডশেডিঙের রাতে হোটেলের ছাদে
ঠোঁটের ওপরে ঠোঁট রেখে বলেছিলি
চুমু প্রিন্ট করে দিচ্ছি সারা নোনা গায়ে
ম্যাজেন্টা গোলাপি ভিজে লিপ্সটিকে
গুনে গুনে একশোটা, লিমিটেড এডিশান
কপিরাইট উল্লঙ্ঘন করলে চলবে না ।

অবন্তিকা, সাংবাদিকা, অধুনান্তিকা
এ-চুক্তি উভয়েরই ক্ষেত্রে লাগু ছিল
কিন্তু দু'জনেই এর-তার কাছ থেকে
শুনেছি কখন কবে কার সাথে শুয়ে
ভেঙেছি ভঙ্গুর চুক্তি কেননা মজাটা
ঠোঁটের ফাইনপ্রিন্টে লিখেছিলি তুই । 

আলফা পুরুষের কবিতা

কী দিয়ে তৈরি তুই ? নারীকে কবিতায়
আনা যাবেনাকো বলে তোর হুমকি,
অবন্তিকা ! কোন ঋতু দিয়ে গড়া ? স্কচ
না সিংগল মল্ট ? নাকি তুই হোমিওপ্যাথির
শিশি থেকে উবে যাওয়া ৩৫ হাজার ফিট
ওপরে আকাশে, প্লেনের হোল্ডে রাখা শীতে
নদীর মোচড়ানো বাঁকে ইলিশের ঝাঁক ?
আলোকে দেশলাই বলে ভাবলি কীভাবে ?
কেন ? কেন ? কেন ? কেন ?  অ্যাঁ, অবু , 
অবন্তিকা ? ভুলে গেলি তোরই ছোঁয়া পেয়ে
আড়মোড়া ভেঙেছিল চকমকি পুরুষ-পাথর !
বল তুই, বলে ফ্যাল, মিটিয়ে নে মিঠে ঝাল
জমা করে রেখেছিস স্কচ-খাওয়া জিভে ;
তোরই বাড়িকে ঘিরে তুষারের তীব্র আলো
সূর্য ওঠেনি আজ পনেরো দিনের বেশি
তবু তোর মুখশ্রী শীতে আলোকিত কেন ?
আসলে অন্যের ওপরে রাগ, উপলক্ষ আমি
হ্যাঁ, হ্যাঁ, খুলে বল, দাঁতে দাঁত দিয়ে বল
যে ভাবে ইচ্ছে তোর উগরে দে স্টক তোর...


তোকে নিয়ে লিখতে পারব না এ-নিষেধ
অমান্য করেই তবে পাতছি চোরা শব্দফাঁদ
অবন্তিকা মুখপুড়ি খুকিবাদী হে প্রেমিকা
এই নে মাটির পোড়ানো আংটি হাঁটু গেড়ে
দিচ্ছি তোর ক্রুদ্ধ আঙুলে, নিবি বা ফেলে দিবি
তা তোর অ্যাড্রেনালিন বুঝবে অবন্তিকা
আমি তো নাচার যতক্ষণ না যাচ্ছিস
মগজের ছাইগাদা-বিস্মৃতির উড়ো আবডালে...

স্প্যাম প্রেমিকা

বাঃ বেশ, আচমকা ঢুকে এলি ডেস্কটপে সঙ্গে তোর ফোটো
বহুরূপী আদুলগা, কুচকুচে হাসিমুখে ডাকছিস কালো সঙ্গমে
দেখছি গোগ্রাসে তোকে বদলভারের জানজতব ভেনাস
ভুলভাল ইংরেজি তলপেটে 'আই লাভ ইউ' লিখে
কৃষ্ণকলি হুকার ললনা তোর ফাঁদপাতা প্রেম নিবেদন
নরম উপাস্য উরু জাদুটোনা-করা নখে রঙ না রক্ত রে
কোন দেশ থেকে এলি মুখপুড়ি ? কেনিয়া উগান্ডা জাম্বিয়া
বুরকিনা ফাসো কংগো ক্যামেরুন সুদান নিঝের ?
মুম্বাই এসে ঘাঁটি গেড়েছিস নাইজারওয়াডিতে দলবেঁধে !
কী করে জানলি হ্যাঁ রে আফ্রিকার নারীসঙ্গ পাইনি কখনও ?
বেশ তোর হাইপার রিয়্যাল যৌন আবেদন ল্যাপটপ আলো
বিশদ জানিস তা । আসতে চাস আলিঙ্গনে তাই। কত টাকা
নাকি ডলারের বিনিময়ে পাওয়া যাবে ওই অভিজ্ঞতা
লিখিসনি তো ? কেবল দেখা করতে বলেছিস মীরা রোডে
জংশনের মোড়ে, ডিজিটাল রূপ ছেড়ে নামবি শহরে ।
৭ আগস্ট ২০১১

পাঁকের মৃন্ময়ী

তুই কি সত্যিই কুচ্ছিত ? সবাই তো তাই বলে। পাঁকের মৃণ্ময়ী!
কোলে কালি চোখ তোর এত ছোটো কী করে দেখিস চেয়ে? ঠোঁটও
ভিষণ পুরু; বুক-পেট-কোমর তো একাকার ; থলথলে মাংসঢলা বডি
পেছন থেকেও তোর দুই বুক দেখতে পেয়ে হাসাহাসি করে লোকে
তাছাড়া শরীর জুড়ে নিমপাতা-মাখা গন্ধে মাছিরা বাসর পাতে
চামড়ায়, এমনই পচন তোর ঘামে; চুলও উকুনে রুক্ষ : অহরহ
তোকেই আঁকছি রোজ যতটা আসল করে তুলে ধরা যায় তোর
পুতিগন্ধময় জিভ মেগের আড়ালে ঢাকা থুতু-বৃষ্টি কথা অনর্গল।

কিন্তু যখনই তোর নাভিতে হাঁ-মুখ চাপি তরল বিদ্যুত বয়ে চলে
পুরোটা শরীর জুড়ে আমাদের দুজনারই। কুচ্ছিত-সুন্দরী তুই
যাবতীয় 'ইজম'এর ঊর্ধে উঠে প্রমাণ করিস সব ফালতু বাঁটোয়ারা।
১২ আগস্ট ২০১১

পাপ ও পূণ্যের যুগ্মবৈপরীত্য

অদ্ভুত নারী তুই অবন্তিকা; বুঝতেই পারি না তোকে
বলিস যে, বোঝার দরকার নেই, কেউ তো বুঝতে চায়নি আজও
হবেই বা কি বুঝে-টুজে ! জাগতিক মজা ছাড়া আর-কিছু
কীই বা হবে জেনে, বলেছিলি ! কী করবি এত টাকা ? কয়েকটা ফ্ল্যাট ?
ব্যাংকের গোপন লকার ? টয়-বয় পালটাস যখন যেমন ইচ্ছা। 
লুকিয়ে আসিস তুই মাঝরাতে মার্সিডিসে চেপে; দরোজা খুলে ধরে ড্রাইভার।
ওঃ কী রোয়াব। ব্র্যান্ডেড সবকিছু: লুই ভিতঁ, জিমি চু, ক্রিস্টিয়ান
ডিয়র, বারবেরি --- লেবেল দেখে-দেখে টের পাই নাক আর বুক উঁচু
ক্ষমতা-বৈভব এই ভারতবর্ষের আর তোরও। আমি তোর বহুভাষী
প্রেমিকের অন্যতম। জানি না প্রেমিক বলা ঠিক হল কি না । বলেছিলি
প্রেমিক নামে কোনো জীব নেই, ছিল না কখনও এ-জগতে
দেয়া-নেয়া বৃত্তের মাঝে আমরা পাক খাই, তাই, যত দিন
পারা যায় লুটে নাও জীবনের অফুরন্ত গ্লানি। উজবুকের ঢঙে দেখি
আর ভাবি কি করেই বা ঘুষ নিস অমন সুন্দরী হয়ে ! বরকে লাথিয়ে
বের করে দিয়েছিলি চৌকাঠের ওপারে যৌবনে। এখনও চোখ তোর
রিয়্যালি যাকে বলে প্রতিমার ঢঙে বিস্ফারিত; ৩০-২৪-৩২ তোর
ওই বডিখানা । প্রশ্ন করেছি তোকে, অবন্তিকা, পাপবোধ হয়নাকো তোর ? বলেছিলি, পাপবোধ নেই বলেই অফুরন্ত ঘুষ নিস; লেখাপড়া
শিখেছিলি এ-জন্যেই, হাড়-মাস এক করে, আই এ এস হওয়াটাও সে জন্যেই
২১ জুলাই ২০১১