মলয় রায়চৌধুরী

মলয় রায়চৌধুরী

বুধবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

প্রজাপতি প্রজন্মের নারী চিত্রাঙ্গদা দেব

রবীন্দ্রনাথ, এটা কিন্তু ভালো হচ্ছে না
চিত্রাঙ্গদা বলছিল আপনি প্রতিদিন
ওকে রুকে নিচ্ছেন আপনাকে সাবান
মাখাবার জন্য বুড়ো হয়েছেন বলে
আপনি নাকি একা বাথরুমে যেতে
ভয় পান আর হাতও পোঁছোয় না
দেহের সর্বত্র চুলে শ্যাম্পু-ট্যাম্পু করা
পোশাক খুললে আসঙ্গ-উন্মুখ নীল
প্রজাপতি ওড়ে ওরই শরীর থেকে
আর তারা আপনার লেখা গান গায়

এটা আপনি কী করছেন ? আপনার
প্রেমিকারা বুড়ি থুতথুড়ি বলে কেন
আমার প্রেমিকাটিকে ফাঁসাতে চাইছেন !

রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

অমরত্ব

সালিশি-সভার শেষে তাড়া করে পিটিয়ে মেরেছে যারা, তারা
তোকেও রেয়াত করল না অবন্তিকা । আমরা দুজনে পচে
চলেছি হুগলি ঘোলা জলে ভেসে ; কী দোষ বলতো আমাদের ?
বউ তুই বৈভবশালীর : আমি গোপন প্রেমিক ছোটোলোক ।
সাম্যবাদ নিয়ে কত কথা চালাচালি হল তিরিশ বছরে ;
প্রেমিকের জন্যে নয় । কে জানে কাদের জ্ঞানে লেগেছে কেতাব...
প্রেমে পচে গলে হারিয়া যাওয়া ছাড়া যা থাকে তা অর্থহীন
সংসারের ঘানি টেনে কলুর বলদে মেটামরফোজড প্রাণী,
পার্টির ফেকলু কর্মী । ভালো এই লাশ হয়ে সমুদ্র ফেনার
বিশাল ঢেউয়ে ছেপে আঁশটে-আলোর পথে মৃত জড়াজড়ি...

বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

কৃত্রিমতা

গাড়ির কাচটা নামা; গগলস খুলে ওই দ্যাখ
সেই সাব-এডিটর তোর অভিনয়ে কৃত্রিমতা
আছে লিখে তুলোধনা করেছিল তোকে অবন্তিকা
তাকিয়ে রয়েছে তোর পোস্টারের খাঁজে অপলক--
নাহ, অপলক বলা যুৎসই নয়, গিলছে রে
তোর সিলিকন-ঠাসা বুক দুটো। ভুলে গেছে ব্যাটা
ওদুটো কৃত্রিম, কিন্তু যৌনতার শিল্পবোধে ফেঁসে
লটকে পড়েছে তোর বুকের নিজস্ব অভিনয়ে।

মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

তোর বহির্মুখ, অবন্তিকা

তোর বহির্মুখী দেহ, আদর-ক্লান্ত ঘামে, মুখপুড়ি মেছোমেয়ে
আলুথালু মরশুমে বেড়ে ও ফিকিরহীন, অপপ্রচারে, বুঝলি
জাহাজ ভাসাতে চাইছে পিম্পদের ঘোড়েল জোয়ারে ।
হাউ সিলি ! নো ? কী বলিস, ডারলিং, সুইটি পাই ?
তোর নাব্য নগ্নতা গ্লসি কাগজের চারু মলাটে হেলান দিয়ে
পুজো সংখ্যার মোটা বেহেডদের পাশে শুয়ে করছেটা কি ?
বল তুই ? তোর কোনো সে নেই ? বোবা না বধির তুই !
অলংকার-টলংকার বেচে খেয়েছিস জানি। বডির কাঠামো
দেখছি ঝুলে গেছে দশ বছর বাদে-বাদে কিস্তি দিতে-দিতে ;
হাউ স্যাড ! চ্যাংড়া যারা জোটে তারা টেকে না কেন রে ?
বছর না যেতেই কাট মারে ! অথচ বডিতো সরেস আজও
অক্ষরের ধাঁচে জমে একেবারে টানটান আগাপাছতলা
কন্ঠের টিউনিঙও শ্বাসকে ফুরিয়ে ফ্যালে রাত বাসি হলে ।
বেশ্যার আলতামাখা গোড়ালি দেখব বলে ভাবিনি কখনো-- তাও
ব্যালেরিনা জোতোর আবডালে, ডারলিং, ঘামে ভেজা অবন্তিকা
প্রণামীর খাতিরে তুই কতরকমের ফাঁদ পেতে রেখেছিস

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১২

ডেথ মেটাল

মুখপুড়ি অবন্তিকা, চুমু খেয়ে টিশু দিয়ে ঠোঁট পুঁছে নিলি !
শ্বাসে ভ্যাপসা চোখের তলায় যুদ্ধচিহ্ণ এঁকে ডেথ মেটাল মাথা দোলাচ্ছিস
চামড়া-জ্যাকেট উপচে লাল নীল থঙ গলায় পেতল-বোতাম চোকার
ঝাপটাচ্ছিস সেকুইন গ্ল্যাম রকার খোলা বাদামি চুল কোমরে বুলেট বেল্ট
বেশ বুঝতে পারছি তোকে গানে ভর করেছে যেন লুঠের খেলা
স্ক্রিমিং আর চেঁচানি-গান তোর কার জন্য কিলিউ কিলিউ কিল
ইউ, লাভিউ লাভিউ লাভ ইউ কাঁসার ব্যাজ-পিন কব্জিবেল্ট
কুঁচকিতে হাত চাপড়ে আগুনের মধু'র কথা বলছিস বারবার 
আমি তো বোলতি বন্ধ থ, তুই কি কালচে ত্বকের সেই বাঙালি মেয়েটা ?
কোথায় লুকোলি হ্যাঁরে কৈশোরের ভিজেচুল রবীন্দ্রনাথের স্বরলিপি
কবে থেকে নব্বুই নাকি শূন্য দশকে ঘটল তোর এই পালটিরূপ
পাইরেট বুট-পা দুদিকে রেখে ঝাবড়া চুলে হেড ব্যাং হেড ব্যাং হেড ব্যাং
ঝাঁকাচ্ছিস রঙিন পাথরমালা বুকের খাঁজেতে কাঁকড়া এঁকে
পাগলের অদৃশ্য মুকুট পরে দানব-ব্লেড বেজ গিটারে গাইছিস
বোলাও যেখানে চাই নেশা দাও প্রেমজন্তুকে মারো অ্যানথ্র্যাক্স বিষে
মেরে ফ্যালো মেরে ফ্যালো মেরে ফ্যালো কিল হিম কিল হিম কিল
কিন্তু কাকে বলছিস তুই বাহুতে করোটি উলকি : আমাকে ?
নাকি আমাদের সবাইকে যারা তোকে লাই দিয়ে ঝড়েতে তুলেছে ?
যে আলো দুঃস্বপ্নের আনন্দ ভেঙে জলের ফোঁটাকে চেরে
জাপটে ধরছিস তার ধাতব বুকের তাপ মাইকে নিংড়ে তুলে
ড্রামবিটে লুকোনো আগুনে শীতে পুড়ছিস পোড়াচ্ছিস
দেয়াল-পাঁজিতে লিখে গিয়েছিলি 'ফেরারি জারজ লোক'
ভাঙাচোরা ফাটা বাক্যে লালা-শ্বাস ভাষার ভেতরে দীপ্ত
নিজেরই লেখা গানে মার্টিনা অ্যসটর নাকি 'চরম শত্রু দল'-এ
অ্যানজেলা গস কিংবা নাইটউইশ-এর টারজা টুরম্যান
লিটা ফোর্ড, মরগ্যান ল্যানডার, অ্যামি লি'র বাঙালি বিচ্ছু তুই
লাল নীল বেগুনি লেজার-আলো ঘুরে ঘুরে বলেই চলেছে
তোরই প্রেমিককে কিল হিম লাভ হিম কিল হিম লাভ হিম লাভ
হিম আর ঝাঁকাচ্ছিস ঝাঁকড়া বাদামি চুল দোলাচ্ছিস উন্মত্ত দুহাত...
২৯ আগস্ট ২০১১

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১১

ইলোপকন্যা

তোর বেডরুমে তোকে পেলুম না, কি ঝঞ্ঝাট, মানে হয়
অবন্তিকা, কোন নদী নিয়ে গেছে, বরফের ডিঙি ভাসালুম
দ্যাখ, কেলেঘাই চূর্ণী গুমনি জলঢাকা ময়ূরাক্ষী কংসাবতীর
স্রোতে, তোর ঘাম নেইকো কোথাও, ভাল্লাগে না, জেলেরাও
পায়নি তোর ফেলে দেয়া অন্ধছোঁয়া, পূর্ণিমাও অন্ধকারে,
কি করে চলবে বল, পেঁয়াজের কান্না নেই, ধ্যাৎতেরি
চুড়ির বাজনাহীন, চুমুগুলো কোন সপ্নে রেখে গিয়েছিস
খুঁজে পাচ্ছিনাকো, কাউকে তো বলে যাবি, মুখের প্রতিবিম্ব
আয়নাসুদ্দু ফেলে দিয়েছিলি, ওঃ কি মুশকিল, পাশে-শোয়া শ্বাস
অন্তত রেখে যেতে পারতিস, আলমারি ফাঁকা কেন, বালিশে
খোঁপার তেল নাভির তিল কাকেই বা দিলি, চেনাই গেল না
তোর মনের কথাও, টুথব্রাশে কন্ঠস্বর নেই, চটিতে নাচও
দেখতে পেলুম না, এমন কষ্ট দিস কেন অবন্তিকা, চুলের
নুটিতে থাকত ডাকনাম, ফুলঝাড়ু চালিয়েও সাড়া পাচ্ছি না,
অফিস যাবার রাস্তা এসে তোর জন্যে মাকড়সার জালে
হাতের রেখা সাজিয়ে চলে গেল তোরই মুখের ইলিশস্বাদ
নিয়ে। আরে, ওই তো, যে-ছোকরার সঙ্গে পালিয়েছিলি তুই
তারই জুতোর ছাপের স্বরলিপি মার্বেল মেঝেয় আঁকা...

লোকাল ও গ্লোবাল

কে দিয়েছে
          উরুতে তোর
          প্রেমের নীল
                         অবন্তিকা
কে দিয়েছে
          দুগালে তোর
          গোলাপ কাঁটা
                        অবন্তিকা
কে দিয়েছে
          কোমরে তোর
          বেতের দাগ
                         অবন্তিকা
প্রেমিকরা তোর
          খুবলে খায়
          এখান-সেখান
                         অবন্তিকা
আমি তো চাই
          সমস্তটুক
          এপিঠ-ওপিঠ
          ওপর-নিচ
                         অবন্তিকা