মলয় রায়চৌধুরী

মলয় রায়চৌধুরী

শনিবার, ৫ মে, ২০১২

প্রেমিকার জ্বর

দেখলি তো অবন্তিকা
মশা-বধুরাও তোর
প্রেমিকগুলোর রক্ত চেনে!
মেঝেয় ছড়ানো তোর
গুঁড়ো-গুঁড়ো মুখচ্ছবি
উড়িয়ে পড়েছে সটকে
তোর যত পার্টটাইম
সুবেশ ডিউড দল।
জ্বরদেহ চাইছে রে
জড়িয়ে ধরুক তোর
গা-ময় ছড়ানো শীত
নিভিয়ে ফেলুক কেউ
তাপের স্হানিক নিম
শুকনো ঠোঁটের শ্লেষে
যা তুই চিরটাকাল
আমারই জন্যে শুধু 
রাখলি ঘুমের ভানে--
এরম ব্যবস্হা ভালো
অন্তত তাহলে প্রিয়ে
আমার কাছেই পাবি
জ্বরের বিকল্প রোগ।
২ আগস্ট ২০১১

শরীর সার্বভৌম

জরায়ুটা বাদ দিয়ে অমন আনন্দ কেন অবন্তিকা
তাও এই গোরস্হানে দাঁড়িয়ে গাইছিস তুই
মৃত যত প্রেমিকের গালমন্দে ঠাসা ডাকনাম
যারা কৈশোরে তোর বিছানার পাশে হাঁট মুড়ে বসে
ভুতুড়ে কায়দায় ঝুঁকে প্রেম নিবেদন করেছিল ?
তারপর তারা সব একে-একে লাৎ খেয়ে বিদেয় হয়েছে
অন্য যুবতী ফাঁসতে যাদের জরায়ুপথ বীজ শুঁকলেই
কয়েক হপ্তায় ফুলে ওঠে। সেসব মহিলা কিন্তু আনন্দি পেতো
এই মনে করে যে দেহটা তো সার্বভৌম, মন বা মনন নয়,
মন না চাইলেও দেহে খেলে যায় ওগরানো তরল বিদ্যুত
যা কিনা ভালো-খারাপের ঊর্ধে । তুইও ঠিক বলেছিস:
'শরীরই সার্বভৌম'।
৬ জুলাই ২০১১

পরমাপ্রকৃতি

মেঘের রঙ দিয়ে ছুঁয়ে দিস অবন্তিকা
চামড়া বাঘের ডোরা ধরে
হাওয়ার রেশম দিয়ে চুল আঁচড়ে দিস অবন্তিকা
মাথা বেয়ে ওঠে বুনোমহিষের শিং
ঝড়ের মস্তি দিয়ে পাউডার মাখিয়ে দিস অবন্তিকা
গায়ে ফোটে গোখরোর আঁশ
হরিণের নাচ দিয়ে কাতুকুতু দিস অবন্তিকা
ঈগলপাখির ডানা পাই
রোদের আঁশ দিয়ে নখ কেটে দিস অবন্তিকা
গজায় নেকড়ের থাবা হাতে-পায়ে
নদীর ঢেউ দিয়ে ঠোঁটে চুমু খাস অবন্তিকা
কাঁধে পাই রাবণের জ্ঞানীগুণী মাথা
বৃষ্টির ঝাপট দিয়ে জড়িয়ে ধরিস অবন্তিকা
হুইস্কির বরফ হয়ে যাই
গানের সুর দিয়ে চান করিয়ে দিস অবন্তিকা
ডুবে যেতে থাকি চোরা ঘূর্ণীর রসে

নখ কাটা ও প্রেম

রবীন্দ্রনাথ, দেড়শ বছর পর একটা প্রশ্ন আপনাকে:
কে আপনার নখ কেটে দিত যখন বিদেশ-বিভুঁয়ে থাকতেন,
সেই বিদেশিনী ? নাকি চৌখশ সুন্দরী ভক্তিমতীরা ?
যুবতীরা আপনার হাতখানা কোলের ওপরে নিয়ে নখ
কেটে দিচ্ছেন, এরকম ফোটো কেউ তোলেনি যে
ওকামপোর হাঁটুর ওপরে রাখা আপনার দর্শনীয় পা ? 



মহাত্মা গান্ধির দুই ডানা রাখবার সাথিনেরা
বোধহয় কেটে দিত নখ; কেননা বার্ধক্যে পৌঁছে
নিজের পায়ের কাছে নেইল-কাটার নিয়ে যাওয়া, ওফ, কি
কষ্টের, আমার মতন বুড়ো যুবতীসঙ্গীহীন পদ্য-লিখিয়েরা
জানে, প্রেম যে কখন বয়সের দাবি নিয়ে আসে ।

ফিসফিসে লোকে বলে সুনীলদার প্রতিটি নখের জন্যে 
উঠতি-কবিনী থাকে এক-একজন। জয় গোস্বামীরও 
ছিল, তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে সাগরের পাঁকে, জাহাজকে ছেড়ে। 
চাইবাসার ছোটোঘরে শক্তিদার নখ কেটে দিচ্ছেন প্রেমিকাটি
দেখেছি যৌবনে। বিজয়াদিদির নখ কেটে দ্যান কি শরৎ ?


যশোধরা তোর নখ কেটে কি দিয়েছে তৃণাঞ্জন কখনও ?
সুবোধ আপনি নখ কেটে দিয়েছেন মল্লিকার পা-দুখানি
কোলের ওপরে তুলে ? কবি কত একা টের পেতে, তার পা-এ
তাকালেই বোঝা যায়। যেমন জীবনানন্দ, হাজার বছর
খুঁজে চলেছেন কবে কোন বনলতা নখ কেটে দিয়ে যাবে তাঁর ।
৩ ডিসেম্বর ২০১১

রাবণের চোখ

শৈশবের কথা। সদ্যপ্রসূত কালো ছাগলির গা থেকে
রক্ত-ক্বাথ পুঁছে দিতে-দিতে বলেছিল কুলসুম আপা
'এভাবেই প্রাণ আসে পৃথিবীতে ; আমরাও এসেছি
একইভাবে'। হাঁস-মুর্গির ঘরে নিয়ে গিয়ে আপা
আমার বাঁ-হাতখানা নিজের তপ্ত তুরুপে চেপে
বলেছিল, 'মানুষ জন্মায় এই সিন্দুকের ডালা খুলে'।

রাবণের দশ জোড়া চোখে আমি ও-সিন্দুক
আতঙ্কিত রুদ্ধশ্বাসে দ্রুত খুলে বন্ধ করে দিই।

বুধবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

প্রজাপতি প্রজন্মের নারী চিত্রাঙ্গদা দেব

রবীন্দ্রনাথ, এটা কিন্তু ভালো হচ্ছে না
চিত্রাঙ্গদা বলছিল আপনি প্রতিদিন
ওকে রুকে নিচ্ছেন আপনাকে সাবান
মাখাবার জন্য বুড়ো হয়েছেন বলে
আপনি নাকি একা বাথরুমে যেতে
ভয় পান আর হাতও পোঁছোয় না
দেহের সর্বত্র চুলে শ্যাম্পু-ট্যাম্পু করা
পোশাক খুললে আসঙ্গ-উন্মুখ নীল
প্রজাপতি ওড়ে ওরই শরীর থেকে
আর তারা আপনার লেখা গান গায়

এটা আপনি কী করছেন ? আপনার
প্রেমিকারা বুড়ি থুতথুড়ি বলে কেন
আমার প্রেমিকাটিকে ফাঁসাতে চাইছেন !

রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

অমরত্ব

সালিশি-সভার শেষে তাড়া করে পিটিয়ে মেরেছে যারা, তারা
তোকেও রেয়াত করল না অবন্তিকা । আমরা দুজনে পচে
চলেছি হুগলি ঘোলা জলে ভেসে ; কী দোষ বলতো আমাদের ?
বউ তুই বৈভবশালীর : আমি গোপন প্রেমিক ছোটোলোক ।
সাম্যবাদ নিয়ে কত কথা চালাচালি হল তিরিশ বছরে ;
প্রেমিকের জন্যে নয় । কে জানে কাদের জ্ঞানে লেগেছে কেতাব...
প্রেমে পচে গলে হারিয়া যাওয়া ছাড়া যা থাকে তা অর্থহীন
সংসারের ঘানি টেনে কলুর বলদে মেটামরফোজড প্রাণী,
পার্টির ফেকলু কর্মী । ভালো এই লাশ হয়ে সমুদ্র ফেনার
বিশাল ঢেউয়ে ছেপে আঁশটে-আলোর পথে মৃত জড়াজড়ি...