মলয় রায়চৌধুরী

মলয় রায়চৌধুরী

শনিবার, ৫ মে, ২০১২

নখ কাটা ও প্রেম

রবীন্দ্রনাথ, দেড়শ বছর পর একটা প্রশ্ন আপনাকে:
কে আপনার নখ কেটে দিত যখন বিদেশ-বিভুঁয়ে থাকতেন,
সেই বিদেশিনী ? নাকি চৌখশ সুন্দরী ভক্তিমতীরা ?
যুবতীরা আপনার হাতখানা কোলের ওপরে নিয়ে নখ
কেটে দিচ্ছেন, এরকম ফোটো কেউ তোলেনি যে
ওকামপোর হাঁটুর ওপরে রাখা আপনার দর্শনীয় পা ? 



মহাত্মা গান্ধির দুই ডানা রাখবার সাথিনেরা
বোধহয় কেটে দিত নখ; কেননা বার্ধক্যে পৌঁছে
নিজের পায়ের কাছে নেইল-কাটার নিয়ে যাওয়া, ওফ, কি
কষ্টের, আমার মতন বুড়ো যুবতীসঙ্গীহীন পদ্য-লিখিয়েরা
জানে, প্রেম যে কখন বয়সের দাবি নিয়ে আসে ।

ফিসফিসে লোকে বলে সুনীলদার প্রতিটি নখের জন্যে 
উঠতি-কবিনী থাকে এক-একজন। জয় গোস্বামীরও 
ছিল, তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে সাগরের পাঁকে, জাহাজকে ছেড়ে। 
চাইবাসার ছোটোঘরে শক্তিদার নখ কেটে দিচ্ছেন প্রেমিকাটি
দেখেছি যৌবনে। বিজয়াদিদির নখ কেটে দ্যান কি শরৎ ?


যশোধরা তোর নখ কেটে কি দিয়েছে তৃণাঞ্জন কখনও ?
সুবোধ আপনি নখ কেটে দিয়েছেন মল্লিকার পা-দুখানি
কোলের ওপরে তুলে ? কবি কত একা টের পেতে, তার পা-এ
তাকালেই বোঝা যায়। যেমন জীবনানন্দ, হাজার বছর
খুঁজে চলেছেন কবে কোন বনলতা নখ কেটে দিয়ে যাবে তাঁর ।
৩ ডিসেম্বর ২০১১

রাবণের চোখ

শৈশবের কথা। সদ্যপ্রসূত কালো ছাগলির গা থেকে
রক্ত-ক্বাথ পুঁছে দিতে-দিতে বলেছিল কুলসুম আপা
'এভাবেই প্রাণ আসে পৃথিবীতে ; আমরাও এসেছি
একইভাবে'। হাঁস-মুর্গির ঘরে নিয়ে গিয়ে আপা
আমার বাঁ-হাতখানা নিজের তপ্ত তুরুপে চেপে
বলেছিল, 'মানুষ জন্মায় এই সিন্দুকের ডালা খুলে'।

রাবণের দশ জোড়া চোখে আমি ও-সিন্দুক
আতঙ্কিত রুদ্ধশ্বাসে দ্রুত খুলে বন্ধ করে দিই।

বুধবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

প্রজাপতি প্রজন্মের নারী চিত্রাঙ্গদা দেব

রবীন্দ্রনাথ, এটা কিন্তু ভালো হচ্ছে না
চিত্রাঙ্গদা বলছিল আপনি প্রতিদিন
ওকে রুকে নিচ্ছেন আপনাকে সাবান
মাখাবার জন্য বুড়ো হয়েছেন বলে
আপনি নাকি একা বাথরুমে যেতে
ভয় পান আর হাতও পোঁছোয় না
দেহের সর্বত্র চুলে শ্যাম্পু-ট্যাম্পু করা
পোশাক খুললে আসঙ্গ-উন্মুখ নীল
প্রজাপতি ওড়ে ওরই শরীর থেকে
আর তারা আপনার লেখা গান গায়

এটা আপনি কী করছেন ? আপনার
প্রেমিকারা বুড়ি থুতথুড়ি বলে কেন
আমার প্রেমিকাটিকে ফাঁসাতে চাইছেন !

রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

অমরত্ব

সালিশি-সভার শেষে তাড়া করে পিটিয়ে মেরেছে যারা, তারা
তোকেও রেয়াত করল না অবন্তিকা । আমরা দুজনে পচে
চলেছি হুগলি ঘোলা জলে ভেসে ; কী দোষ বলতো আমাদের ?
বউ তুই বৈভবশালীর : আমি গোপন প্রেমিক ছোটোলোক ।
সাম্যবাদ নিয়ে কত কথা চালাচালি হল তিরিশ বছরে ;
প্রেমিকের জন্যে নয় । কে জানে কাদের জ্ঞানে লেগেছে কেতাব...
প্রেমে পচে গলে হারিয়া যাওয়া ছাড়া যা থাকে তা অর্থহীন
সংসারের ঘানি টেনে কলুর বলদে মেটামরফোজড প্রাণী,
পার্টির ফেকলু কর্মী । ভালো এই লাশ হয়ে সমুদ্র ফেনার
বিশাল ঢেউয়ে ছেপে আঁশটে-আলোর পথে মৃত জড়াজড়ি...

বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

কৃত্রিমতা

গাড়ির কাচটা নামা; গগলস খুলে ওই দ্যাখ
সেই সাব-এডিটর তোর অভিনয়ে কৃত্রিমতা
আছে লিখে তুলোধনা করেছিল তোকে অবন্তিকা
তাকিয়ে রয়েছে তোর পোস্টারের খাঁজে অপলক--
নাহ, অপলক বলা যুৎসই নয়, গিলছে রে
তোর সিলিকন-ঠাসা বুক দুটো। ভুলে গেছে ব্যাটা
ওদুটো কৃত্রিম, কিন্তু যৌনতার শিল্পবোধে ফেঁসে
লটকে পড়েছে তোর বুকের নিজস্ব অভিনয়ে।

মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

তোর বহির্মুখ, অবন্তিকা

তোর বহির্মুখী দেহ, আদর-ক্লান্ত ঘামে, মুখপুড়ি মেছোমেয়ে
আলুথালু মরশুমে বেড়ে ও ফিকিরহীন, অপপ্রচারে, বুঝলি
জাহাজ ভাসাতে চাইছে পিম্পদের ঘোড়েল জোয়ারে ।
হাউ সিলি ! নো ? কী বলিস, ডারলিং, সুইটি পাই ?
তোর নাব্য নগ্নতা গ্লসি কাগজের চারু মলাটে হেলান দিয়ে
পুজো সংখ্যার মোটা বেহেডদের পাশে শুয়ে করছেটা কি ?
বল তুই ? তোর কোনো সে নেই ? বোবা না বধির তুই !
অলংকার-টলংকার বেচে খেয়েছিস জানি। বডির কাঠামো
দেখছি ঝুলে গেছে দশ বছর বাদে-বাদে কিস্তি দিতে-দিতে ;
হাউ স্যাড ! চ্যাংড়া যারা জোটে তারা টেকে না কেন রে ?
বছর না যেতেই কাট মারে ! অথচ বডিতো সরেস আজও
অক্ষরের ধাঁচে জমে একেবারে টানটান আগাপাছতলা
কন্ঠের টিউনিঙও শ্বাসকে ফুরিয়ে ফ্যালে রাত বাসি হলে ।
বেশ্যার আলতামাখা গোড়ালি দেখব বলে ভাবিনি কখনো-- তাও
ব্যালেরিনা জোতোর আবডালে, ডারলিং, ঘামে ভেজা অবন্তিকা
প্রণামীর খাতিরে তুই কতরকমের ফাঁদ পেতে রেখেছিস

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১২

ডেথ মেটাল

মুখপুড়ি অবন্তিকা, চুমু খেয়ে টিশু দিয়ে ঠোঁট পুঁছে নিলি !
শ্বাসে ভ্যাপসা চোখের তলায় যুদ্ধচিহ্ণ এঁকে ডেথ মেটাল মাথা দোলাচ্ছিস
চামড়া-জ্যাকেট উপচে লাল নীল থঙ গলায় পেতল-বোতাম চোকার
ঝাপটাচ্ছিস সেকুইন গ্ল্যাম রকার খোলা বাদামি চুল কোমরে বুলেট বেল্ট
বেশ বুঝতে পারছি তোকে গানে ভর করেছে যেন লুঠের খেলা
স্ক্রিমিং আর চেঁচানি-গান তোর কার জন্য কিলিউ কিলিউ কিল
ইউ, লাভিউ লাভিউ লাভ ইউ কাঁসার ব্যাজ-পিন কব্জিবেল্ট
কুঁচকিতে হাত চাপড়ে আগুনের মধু'র কথা বলছিস বারবার 
আমি তো বোলতি বন্ধ থ, তুই কি কালচে ত্বকের সেই বাঙালি মেয়েটা ?
কোথায় লুকোলি হ্যাঁরে কৈশোরের ভিজেচুল রবীন্দ্রনাথের স্বরলিপি
কবে থেকে নব্বুই নাকি শূন্য দশকে ঘটল তোর এই পালটিরূপ
পাইরেট বুট-পা দুদিকে রেখে ঝাবড়া চুলে হেড ব্যাং হেড ব্যাং হেড ব্যাং
ঝাঁকাচ্ছিস রঙিন পাথরমালা বুকের খাঁজেতে কাঁকড়া এঁকে
পাগলের অদৃশ্য মুকুট পরে দানব-ব্লেড বেজ গিটারে গাইছিস
বোলাও যেখানে চাই নেশা দাও প্রেমজন্তুকে মারো অ্যানথ্র্যাক্স বিষে
মেরে ফ্যালো মেরে ফ্যালো মেরে ফ্যালো কিল হিম কিল হিম কিল
কিন্তু কাকে বলছিস তুই বাহুতে করোটি উলকি : আমাকে ?
নাকি আমাদের সবাইকে যারা তোকে লাই দিয়ে ঝড়েতে তুলেছে ?
যে আলো দুঃস্বপ্নের আনন্দ ভেঙে জলের ফোঁটাকে চেরে
জাপটে ধরছিস তার ধাতব বুকের তাপ মাইকে নিংড়ে তুলে
ড্রামবিটে লুকোনো আগুনে শীতে পুড়ছিস পোড়াচ্ছিস
দেয়াল-পাঁজিতে লিখে গিয়েছিলি 'ফেরারি জারজ লোক'
ভাঙাচোরা ফাটা বাক্যে লালা-শ্বাস ভাষার ভেতরে দীপ্ত
নিজেরই লেখা গানে মার্টিনা অ্যসটর নাকি 'চরম শত্রু দল'-এ
অ্যানজেলা গস কিংবা নাইটউইশ-এর টারজা টুরম্যান
লিটা ফোর্ড, মরগ্যান ল্যানডার, অ্যামি লি'র বাঙালি বিচ্ছু তুই
লাল নীল বেগুনি লেজার-আলো ঘুরে ঘুরে বলেই চলেছে
তোরই প্রেমিককে কিল হিম লাভ হিম কিল হিম লাভ হিম লাভ
হিম আর ঝাঁকাচ্ছিস ঝাঁকড়া বাদামি চুল দোলাচ্ছিস উন্মত্ত দুহাত...
২৯ আগস্ট ২০১১