মলয় রায়চৌধুরী

মলয় রায়চৌধুরী

বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১

পুরোহিতহীনতার কবিত্ব

 

পুরোহিতহীনতার কবিত্ব

মলয় রায়চৌধুরী

রশ্মির স্বাহা কয়েকটা উড়ছিল 

নাভির চর্বিতে আগুন ধরিয়ে

পাঁজর ফাটার শব্দ

প্রচুর গাওয়া-ঘি মাখানো সুন্দরী

চন্দন মাখানো কান-নাক-চোখে ছোঁয়াবার সোনা

কবি তিন বার তোমাকে পাক দিচ্ছিলেন

নুটির আগুন 

পোশাক বদলের হিন্দু সময় নেই

এক লিটার সিলবন্ধ গঙ্গাজল

খড়ের পালঙ্ক কে জানে কোন কাঠ

চামড়া পোড়া গন্ধের মোহক

ভেবো না যে কাঁদছেন কবি

ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করছিল ওঁর

শবদেহের কিউ কালকে সকাল থেকে

রজনীগন্ধারা শুকিয়ে ন্যাতানো

অ্যামবুলেন্স চালকেরা দিনে ষোলো বার

রোজগারের সুযোগ এসেছে বহুকাল পর

রশ্মির স্বাহা খেলছে আপাদমস্তক

এতো দেরি কেন

নিমপাতার প্যাকেট কিনতে গিয়েছিল

পর পর সহমরণের লাইন দিয়েছে দেখছেন

মুদ্দোফরাসের লোহার অভ্যস্ত বাড়ি 

খুলির ওপরে

ব্রহ্মাণ্ড ফাটার আওয়াজ

আগুন চমক দিয়ে নিজস্ব উড়াল নেয়

সাতজন আত্মীয় নেই বলে কবি

নিজেই প্লাস্টিকের কলসি ভরে জল দেন নিভন্ত আগুনে

পাথর,  জল, গোবর, সাদা সরষে, 

লোহা, মটর ডাল প্লা্টিক প্যাকেটে

কিন্তু কবির তো বাড়ি নেই

আত্মীয়-স্বজন নেই, জ্ঞাতি-বন্ধু নেই

তিনি তো নিজেই নিজের পুরোহিত









শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১

গন্ধের প্রণয়

 

গন্ধের প্রণয়

মলয় রায়চৌধুরী

মহাভারতের গন্ধ মেখে আসে, খোঁপায় কণকচাঁপা গুঁজে

আমাকে ফুসলিয়ে পচা মাছগুলো চাপিয়ে দেবে বলে

রবীন্দ্রনাথের কৃষ্ণকলি রামপ্রসাদ-রামকৃষ্ণের শ্যামা

সত্যি মেছুনিটা কালো অথচ সমুদ্রের উত্তাল আদরে

গোড়ালি গোলাপি ; সারা দেহে লইট্যার টাটকা-নরম

বুকের খাঁজ জুড়ে জাল-পলায়নরত মাছের উড়াল

চিংড়িগুলোকে ইশারায় টিপে ও দামের বার্তা দেয় 

এ-নাও সুরমাই, রাওয়স, ভারতের তেলালো স্যামন

পাপলেট, ওহ পমফ্রেট, নিলে জোড়া নিতে হবে, ভাবো

এইখানা তুমি আর তার পাশে আমি, নয়তো গেদারে

লিপস্টিক-রঙা  এ-হল টিউনা মাছ  দ্যাখো দ্যাখো ছুঁয়ে

মেছুনির চোখে নিরক্ষর  পৌরাণিক ফাঁদে পড়ে কিনি

ইশারার  উপমাগুলো ওর উত্তরাধুনিক প্রেম মনে করে


 

 

 

 

 

 

 

 

 

বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১

একম

 

একম

একই ঘরে থাকিনি জীবনভর

একই খাটে শুইনি জীবনভর

একই চেয়ারে বসিনি জীবনভর

একই বাড়িতে থাকিনি জীবনভর

একই পাড়ায় থাকিনি জীবনভর

একই শহরে থাকিনি জীবনভর

তাহলে একই দেহে থাকার কোনো মানে হয় !


 

বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১

পাটনার রাস্তায় আমার মা

 

পাটনার রাস্তায় আমার মা

মলয় রায়চৌধুরী

‘আরে, রিকশঅলাটা যে বাংলায় কথা বলছে’

মা অবাক হয়ে বলে উঠলেন,

রিকশঅলাকে জিগ্যেস করলেন

‘তুম বাংলা কহাঁসে সিখে ?’

রোগা প্যাংলা লোকটা বলল

‘মা, আমি বাঙালি, মোতিহারি ক্যাম্প থিকা পলায়া আসতেসি’।

মাকে বললুম, ‘দেশভাগে যে উদ্বাস্তুরা এসেছে তাদের মধ্যে

নম্ঃশুদ্রদের মোতিহারি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।’

মায়ের কান্না পেয়ে গেল । বললেন,

‘কখনও ভাবিনি বাঙালিরা রিকশা চালাবে !’

 

 

 

 

 

 

 

 

শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১

জেরা

 

জেরা

মলয় রায়চৌধুরী

ওভাবে লিখেছিস কেন ? কার নাম ? খাতা নোংরা করিস রোজ-রোজ ?

আমি তো নিজেই জানি না কার নাম শুকনো খোলায় জিরে ভাজলে ওঠে!

এসব তোমারই কাণ্ড, বাবা-মা শেখায়নি কী করে ডিগবাজি খাবে

নদীর ভেতরে ডুবে ? মাছেদের সঙ্গে কী-কী কথা হয় ? ইলিশ না কালবোস?

ধরে এনে থার্ড ডিগ্রি দিলেই পেট থেকে গলগল করে বেরোবে জাহাজ !

এ-শালা সহজে মুখ খুলবে না, এককালে সরকারি খোচর ছিল ব্যাটা

এখন সুপারি কিলার হয়ে বিদ্যুতের নলি কেটে গাঁ-গঞ্জ ভাসায়

ঠ্যাঙ বেঁধে টাঙিয়ে দে, পোঁদে হুড়কো কর, হয়তো হীরেগুলো

ঝরে পড়বে ঈগলের ডানা মেলে,  বখরা পাবি দোআঁশলা বাপ

একাধিক, টেরি কেটে বানভাসি শহরে গোঁত্তা মারবে, জেরা কর জেরা

নির্ঘাৎ পাতলা হয়ে এসেছে শুক্ররসের সাঁতারুরা, হায় মৌলা কী করলা

এ রে কয় জেরা ? হাত-পা-মুখ বেঁধে ওর নদীতে ভাসাস যদি কোনো

শালা কুমির-শুশুক-হাঙর মাস্তান ন্যাপালা বের করবে না, দেখে নিস

লেখা ডান দিকে নাকি বাঁদিকপানে হেলে যায় ? জেরা করে বের কর

কবে মরতে চায় ? পূণ্য তিথি আছে একটা এই থমথমে চৈত্রের সেলে…..