একম
একই ঘরে থাকিনি জীবনভর
একই খাটে শুইনি জীবনভর
একই চেয়ারে বসিনি জীবনভর
একই বাড়িতে থাকিনি জীবনভর
একই পাড়ায় থাকিনি জীবনভর
একই শহরে থাকিনি জীবনভর
তাহলে একই দেহে থাকার কোনো মানে হয় !
একম
একই ঘরে থাকিনি জীবনভর
একই খাটে শুইনি জীবনভর
একই চেয়ারে বসিনি জীবনভর
একই বাড়িতে থাকিনি জীবনভর
একই পাড়ায় থাকিনি জীবনভর
একই শহরে থাকিনি জীবনভর
তাহলে একই দেহে থাকার কোনো মানে হয় !
পাটনার রাস্তায় আমার মা
মলয় রায়চৌধুরী
‘আরে, রিকশঅলাটা যে বাংলায় কথা বলছে’
মা অবাক হয়ে বলে উঠলেন,
রিকশঅলাকে জিগ্যেস করলেন
‘তুম বাংলা কহাঁসে সিখে ?’
রোগা প্যাংলা লোকটা বলল
‘মা, আমি বাঙালি, মোতিহারি ক্যাম্প থিকা পলায়া আসতেসি’।
মাকে বললুম, ‘দেশভাগে যে উদ্বাস্তুরা এসেছে তাদের মধ্যে
নম্ঃশুদ্রদের মোতিহারি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।’
মায়ের কান্না পেয়ে গেল । বললেন,
‘কখনও ভাবিনি বাঙালিরা রিকশা চালাবে !’
জেরা
মলয় রায়চৌধুরী
ওভাবে লিখেছিস কেন ? কার নাম ? খাতা নোংরা করিস রোজ-রোজ ?
আমি তো নিজেই জানি না কার নাম শুকনো খোলায় জিরে ভাজলে ওঠে!
এসব তোমারই কাণ্ড, বাবা-মা শেখায়নি কী করে ডিগবাজি খাবে
নদীর ভেতরে ডুবে ? মাছেদের সঙ্গে কী-কী কথা হয় ? ইলিশ না কালবোস?
ধরে এনে থার্ড ডিগ্রি দিলেই পেট থেকে গলগল করে বেরোবে জাহাজ !
এ-শালা সহজে মুখ খুলবে না, এককালে সরকারি খোচর ছিল ব্যাটা
এখন সুপারি কিলার হয়ে বিদ্যুতের নলি কেটে গাঁ-গঞ্জ ভাসায়
ঠ্যাঙ বেঁধে টাঙিয়ে দে, পোঁদে হুড়কো কর, হয়তো হীরেগুলো
ঝরে পড়বে ঈগলের ডানা মেলে, বখরা পাবি দোআঁশলা বাপ
একাধিক, টেরি কেটে বানভাসি শহরে গোঁত্তা মারবে, জেরা কর জেরা
নির্ঘাৎ পাতলা হয়ে এসেছে শুক্ররসের সাঁতারুরা, হায় মৌলা কী করলা
এ রে কয় জেরা ? হাত-পা-মুখ বেঁধে ওর নদীতে ভাসাস যদি কোনো
শালা কুমির-শুশুক-হাঙর মাস্তান ন্যাপালা বের করবে না, দেখে নিস
লেখা ডান দিকে নাকি বাঁদিকপানে হেলে যায় ? জেরা করে বের কর
কবে মরতে চায় ? পূণ্য তিথি আছে একটা এই থমথমে চৈত্রের সেলে…..
টর্চার
মলয় রায়চৌধুরী
“এটা সত্যকথা বলার ঘর
এই ঘরে সবাই সত্য কথা বলে
সত্যকথা’র সংজ্ঞা আমাদের তৈরি
সত্য ওগরাতে হয়
না ওগরানো পর্যন্ত কোনো কথাই সত্য নয়”